আল্লাহ তা‘আলা ‘আরশের উপর (কুরআন এবং হাদিসের দলিলসহ)

 

 আল্লাহ তা‘আলা ‘আরশের উপর।
✪ আল্লাহ তা‘আলা ‘আরশের উপর, মাখলুকাতের উর্ধ্বে, সৃষ্টিকুলের বিপরীতে, সৃষ্টিকুলের কোনকিছুর ভেতরে নন এবং তাঁর ইলম সর্বত্র”
এ ব্যাপারে দলীল হচ্ছে কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবী, তাবেয়ীন ও হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামদের ইজমা।
✪✪ কুরআন থেকে দলীল: (১০টি)
দলীল নং - ১
 إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ
◑ নিশ্চয় তোমাদের রব আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশে উঠেছেন। (সূরাঃ ৭ আল-আ'রাফ ৫৪)
দলীল নং - ২ 
اِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ ؕ مَا مِنۡ شَفِیۡعٍ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ اِذۡنِهٖ ؕ ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمۡ فَاعۡبُدُوۡهُ ؕ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ 
◑ নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ। যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর আরশে উঠেছেন। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন। তার অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। তারপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? (সূরাঃ ১০ ইউনুস ৩)
দলীল নং - ৩
اَللّٰهُ الَّذِیۡ رَفَعَ السَّمٰوٰتِ بِغَیۡرِ عَمَدٍ تَرَوۡنَهَا ثُمَّ  اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ وَ سَخَّرَ الشَّمۡسَ وَ الۡقَمَرَ ؕ كُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ یُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّكُمۡ بِلِقَآءِ رَبِّكُمۡ تُوۡقِنُوۡنَ ﴿۲﴾ 
◑ আল্লাহ, যিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ উঁচু করেছেন যা তোমরা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন। এর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে। তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন। আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন, যাতে তোমাদের রবের সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হতে পার। [১৩. আর-রাদ - আয়াতঃ ২]
দলীল নং-৪
اَلرَّحۡمٰنُ  عَلَی الۡعَرۡشِ  اسۡتَوٰی
◑ পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন। ( সূরা ২০ ত্ব হা ৫)
দলীল নং-৫
ۣالَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَهُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ۚۛ اَلرَّحۡمٰنُ فَسۡـَٔلۡ بِهٖ خَبِیۡرًا ﴿۵۹﴾
◑ যিনি আসমান, যমীন ও উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। পরম করুণাময়। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে যিনি সম্যক অবহিত, তুমি তাকেই জিজ্ঞাসা কর। (২৫ সূরা- আল-ফুরকান ৫৯)
দলীল নং-৬
اَللّٰهُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَهُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ مَا لَكُمۡ مِّنۡ دُوۡنِهٖ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّ لَا شَفِیۡعٍ ؕ اَفَلَا تَتَذَكَّرُوۡنَ ﴿۴﴾ 
◑ আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোন অভিভাবক নেই এবং নেই কোন সুপারিশকারী। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? (৩২ সূরা আস-সাজদাহ-৪)
দলীল-৭
আল্লাহ তা‘আলা ফেরাউনের বক্তব্য বর্ণনা করে বলেন:
 وَ قَالَ فِرۡعَوۡنُ یٰهَامٰنُ ابۡنِ لِیۡ صَرۡحًا لَّعَلِّیۡۤ اَبۡلُغُ الۡاَسۡبَابَ ﴿ۙ۳۶﴾اَسۡبَابَ السَّمٰوٰتِ فَاَطَّلِعَ اِلٰۤی اِلٰهِ مُوۡسٰی وَ اِنِّیۡ لَاَظُنُّهٗ كَاذِبًا ؕ 
“হে হামান! আমার জন্য একটি উঁচু প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি আসমানের পথগুলোতে পৌঁছাতে পারি, অতঃপর মূসার ইলাহকে দেখতে পারি; আর আমি তো তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।” (সূরা গাফির: ৩৬–৩৭)
দলীল নং-৮
ءَاَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یَّخۡسِفَ بِكُمُ الۡاَرۡضَ فَاِذَا هِیَ تَمُوۡرُ
◑ যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ যমীন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে? (৬৭ সূরা আল-মুলক-১৬)
দলীল-৯ 
یَخَافُوۡنَ رَبَّهُمۡ مِّنۡ فَوۡقِهِمۡ وَ یَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ ﴿ٛ۵۰﴾
◑ তারা ভয় করে তাদের উপরস্থ তাদের রবকে এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয় তারা তা করে। (১৬ সূরা আন-নাহল ৫০)
দলীল নং -১০
تَعۡرُجُ الۡمَلٰٓئِكَۃُ وَ الرُّوۡحُ اِلَیۡهِ فِیۡ یَوۡمٍ كَانَ مِقۡدَارُهٗ خَمۡسِیۡنَ اَلۡفَ سَنَۃٍ ۚ﴿۴﴾
◑ ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহ্‌র দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। (৭০ সূরা আল-মা'আরিজ- ৪)
✪✪ হাদিস থেকে দলীল: (১০টি)
দলীল নং-১
◑ মুআবিয়া বিন হাকাম সুলামী থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, উহুদ ও জাওয়ানিয়্যাহর মধ্যবর্তী জায়গায় আমার কিছু ছাগল ছিল, যার দেখাশোনা করত আমারই এক ক্রীতদাসী। একদা সে পাল ছেড়ে দিলে অকস্মাৎ এক নেকড়ে এসে একটি ছাগল নিয়ে চম্পট দেয়। আমি আদম সন্তানের অন্যতম মানুষ, মনস্তাপ ও ক্রোধে দাসীকে চপেটাঘাত করলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে সে কথার উল্লেখ করলে তিনি তা আমার জন্য বড় গুরুতর মনে করলেন। আমি বললাম, ‘হে  আল্লাহ র রসূল! আমি ওকে মুক্ত করে দেব না কি?’ তিনি বললেন, “ওকে ডাকো।” আমি ওকে ডেকে আনলে তিনি ওকে প্রশ্ন করলেন,
"‏ أَيْنَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فِي السَّمَاءِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَنْ أَنَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ ‏"
 “ আল্লাহ   কোথায় ?” দাসীটি বলল, ‘আকাশে।’ তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, “আমি কে?” সে বলল, ‘আপনি  আল্লাহর রসূল।’ তিনি বললেন, “ওকে মুক্ত করে দাও; যেহেতু ও মুমিন নারী।” 
(মুসলিম ১২২৭, আবূ দাঊদ ৯৩০, নাসাঈড় কুবরা ১১৪১, হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ২২ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
দলীল নং - ২
‎◑ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ 
يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ وَهْوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ ‏
মালাকগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। ‘আসর ও ফজরের সালাতে উভয় দল একত্র হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে আসলে? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। উত্তরে তাঁরা বলেন, আমরা তাদের সালাতে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায়রত অবস্থায় ছিলেন।
( সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৫, হাদিসের মান: সহিহ) হাদিস। 
দলীল নং - ৩ 
◑ ‎‎আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا أَهْلَ الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ ‏
 দয়াশীলদের উপর করুনাময় আল্লাহ্‌ দয়া করেন। তোমরা দুনিয়াবাসীকে দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদেরকে দয়া করবেন।
(আবু দাউদ - ৪৯৪১ সহীহাহ্ ৯২২। জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৯২৪, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।)
দলীল নং-৪
◑ ‎আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেন, যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ) -কে উপলক্ষ করে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যায়নাবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ উপলক্ষে ওয়ালিমা হিসেবে সেদিন রুটি ও গোশ্ত খাইয়েছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রীদের উপর যাইনাব (রাঃ) গর্ব করে বলতেন, 
وَكَانَتْ تَفْخَرُ عَلَى نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَتْ تَقُولُ إِنَّ اللهَ أَنْكَحَنِي فِي السَّمَاءِ
আল্লাহ্ তো আসমানে আমার বিয়ের সিদ্ধান্ত করেছেন। 
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৪২১, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
দলীল নং ৫
‎◑ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ  তিনি বলেন, মালাকুল মাওতকে মূসা (আঃ)-এর নিকট পাঠানো হল। তিনি তাঁর নিকট আসলে, মূসা (আঃ) তাঁকে চপেটাঘাত করলেন। (যার ফলে তাঁর চোখ বেরিয়ে গেল।) তখন মালাকুল মাওত তাঁর প্রতিপালকের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। তখন আল্লাহ্‌ তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিয়ে হুকুম করলেন, আবার গিয়ে তাঁকে বল, তিনি একটি ষাঁড়ের পিঠে তাঁর হাত রাখবেন, তখন তাঁর হাত যতটুকু আবৃত করবে, তার সম্পূর্ণ অংশের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তাঁকে এক বছর করে আয়ু দান করা হবে। মূসা (আঃ) এ শুনে বললেন, হে আমার রব! অতঃপর কী হবে? আল্লাহ্‌ বললেনঃ অতঃপর মৃত্যু। মূসা (আঃ) বললেন, তা হলে এখনই হোক। তখন তিনি একটি পাথর নিক্ষেপ করলে যতদূর যায় বাইতুল মাক্বদিসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থানে তাঁকে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে নিবেদন করলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পথের পাশে লাল বালুর টিলার নিকটে তাঁর কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৩৯, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস) 
দলীল নং-৬
◑ ‎আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ 
إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللهَ قَدْ أَحَبَّ فُلاَنًا فَأَحِبَّهُ فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ ثُمَّ يُنَادِي جِبْرِيلُ فِي السَّمَاءِ إِنَّ اللهَ قَدْ أَحَبَّ فُلاَنًا فَأَحِبُّوهُ فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ وَيُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي أَهْلِ الأَرْضِ
আল্লাহ্ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিব্রীলকে ডেকে বলেন, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তাই তুমিও তাকে ভালবাস। কাজেই জিব্রীল (আঃ) তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিব্রীল (আঃ) আসমানে এ ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন তাকে  আসমানবাসীরা ভালবাসে এবং পৃথিবীবাসীদের মধ্যেও তাকে গ্রহণীয় করা হয়। 
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৪৮৫, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।)
দলীল নং ৭
◑ মিরাজের বড় হাদিসে আছে, 
.....রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তারপর আমাকে নিয়ে জিবরাঈল (আঃ) চললেন। প্রথম আসমানে নিয়ে এসে দরজা খুলে দিতে বললেন, জিজ্ঞেস করা হল, ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আবার জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হাঁ। তখন বলা হল, মারহাবা, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেয়া হল।
(এভাবে প্রথম আসমান থেকে যেতে যেতে ক্রমান্বয়ে ৭ম আসমান)
....তারপর জিবরাঈল (আঃ) আমাকে নিয়ে সপ্তম আকাশের দিকে গেলেন এবং দরজা খুলে দিতে বললেন, জিজ্ঞেস করা হল এ কে? তিনি উত্তর দিলেন, আমি জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জিজ্ঞেস করা হল, তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, হাঁ। বলা হল, তাঁর প্রতি মারহাবা। উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। 
.... তারপর আমাকে সিদ্‌রাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উঠানো হল। 
(সহিহ বুখারি -৩৮৮৭, ৩২০৭ হাদিসের মান :সহীহ) 
দলীল নং - ৮
◑ নু’মান বিন বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাহমীদের (আলহামদু লিল্লাহ)-এর মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর যে মহিমা বর্ণনা কর তা  মৌমাছির  গুঞ্জনের ন্যায় শব্দ করে আরশের চারপাশে ঘুরতে থাকে। সেগুলো নিজ নিজ প্রেরকের কথা উল্লেখ করতে থাকে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করে না যে, আল্লাহর নিকট অনবরত তার উল্লেখকারী কেউ থাকুক? 
(আহমাদ ১৭৮৯৮,১৭৯২১।,  মুখতাসারুল উলু ৩২/২৪।,  সুনানে ইবনে মাজাহ - ৩৮০৯, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।)
দলীল নং - ৯
◑ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, 
إِنَّ اللهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الْخَلْقَ إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي فَهُوَ مَكْتُوبٌ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ
আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে একটি লেখা লিখে রেখেছেন। তা হলো “আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে”, এটি তাঁরই নিকটে আরশের ওপর লেখা আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৪)
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৫৫৪, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
দলীল নং - ১০ 
◑ ‎সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 
إِنَّ رَبَّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا 
নিশ্চয় তোমাদের রব্ব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। বান্দাহ দু’ হাত তুলে তাঁর নিকট চাইলে তিনি খালি হাত ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন।
(সুনানে আবু দাউদ, ১৪৮৮, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
✪✪ সাহাবি (রাঃ) গন,  তাবেঈ গন ও ইমামদের (৪ ইমাম সহ) থেকে দলীল। (১৫ টি)
দলীল নং-১
✪ আবূ বকর আস-সিদ্দীক (রাঃ) থেকে দলীল।
নবী (সাঃ)-এর মৃত্যু হলে আবূ বকর (রা) বলেন :
من كان يعبد محمدًا فإنه قد مات ومن كان يعبد الذي في السماء فإنه حي لا يموت
যিনি মুহাম্মাদের ‘ইবাদাত করতেন, জেনে রাখুন! তিনি মারা গেছেন। আর যিনি সেই সত্তার ‘ইবাদাত করতেন, যিনি আসমানের উপরে, তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই ।
(এ হাদীস দারেমী সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। দারেমী পৃঃ৪৬৩, যাহাবীর কিতাবুল আরশ-১০১)
দলীল নং - ২
✪ ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে দলীল। 
وعن عبد الرحمن بن غنم قال سمعت عمر بن الخطاب يقول : "ويل لديان من في الأرض، من ديان من في السماء يوم يلقونه، إلا من أمر بالعدل، وقضى بالحق، ولم يقض على هوى، ولا على قرابة، ولا على رغب ولا رهب، وجعل كتاب الله مرآة بين عينيه
আব্দুর রহমান ইবন গুনম বলেন, আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন : ‘দুনিয়ার বিচারকের জন্য দুর্ভোগ আসমানের উপরের বিচারকের কাছে; যে-দিন সে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে। তবে তিনি ব্যতীত যিনি ইনসাফের আদেশ দেন, হক অনুযায়ী ফায়সালা করেন; ফায়সালা দেন না প্রবৃত্তি, আত্মীয়তা, অভিমুখী কিংবা ভয়-ভীতির উপর নির্ভর করে। আর আল্লাহর কিতাবকে দুই চোখের আয়না করে রাখেন।
(দারেমী পৃ: ৪৬২, যাহাবীর কিতাবুর আরশ-১০২, তাহক্বিক আলবানী : সনদ সহীহ) 
দলীল নং - ৩ 
✪ ‘আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে দলীল।
وعن عبد الله بن مسعود قال : "ما بين السماء القصوى والكرسي خمسمائة عام، وبين الكرسي والماء كذلك، والعرش فوق الماء والله فوق العرش، ولا يخفى عليه شيء من أعمالكم".
‘আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেন- শেষ আসমান ও কুরসীর মাঝে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছর এবং কুরসী ও পানির মাঝে অনুরূপ (দূরত্ব)। ‘আরশ পানির উপরে আর আল্লাহ ‘আরশের উপরে। তাঁর কাছে তোমাদের আমলের কিছুই গোপন থাকে না ।
( এই হাদীস লালেকাঈ ও বাইহাকী সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন । দারেমী পৃ: ২৭৫, যাহাবীর কিতাবুর আরশ - ১০৫, ইবনে খুজাইমাহ আত তাওহীদ - ১৪৯)
দলীল নং - ৪
وعنه أنه قال : "إن العبد ليهم بالأمر من التجارة والإمارة، حتى إذا تيسر له، نظر الله إليه من
فوق سبع سموات، فيقول للملائكة : اصرفوه عنه فإنه إن يسرته له أدخله النار".
◑ ইবন মাসউদ বলেন- বান্দা ব্যবসা বা নেতৃত্বের চিন্তা-ভাবনা করে, এমনকি যখন তা তার জন্য সহজ হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তার দিকে সাত আসমানের উপর থেকে দৃষ্টি দেন এবং ফিরিশতাদেরকে বলেন— তাকে এর থেকে ফিরিয়ে দাও। কেননা আমি যদি তা তার জন্য সহজ করে দিই, তবে তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব ।
এই হাদীস আবূল কাসিম লালেকাঈ শাফেয়ী প্রমুখগণ সহীহ সনদে খাইসামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি ইবন মাসঊদ থেকে
(দারেমী আর রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ-২৭৪-২৭৫, কিতাবুল আরশ - ১০৭, সনদ সহীহ) 
দলীল নং - ৫
✪ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে প্রমাণ:
জুওয়াইবির থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি দ্বাহহাক থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে, ইবন আব্বাস বলেছেন-
قالت امرأة العزيز ليوسف : إني كثيرة الدر والياقوت، فأعطيك ذلك حتى تنفق في مرضاة سيدك الذي في السماء".
আযীযের স্ত্রী ইউসুফ (আঃ)-কে বললেন- আমি অঢেল মণিমুক্তার মালিক। আমি সেসব মণিমুক্তা আপনাকে দিতে চাই, যাতে আপনি আপনার আসমানের উপরের প্রভুর সন্তুষ্টির জন্য খরচ করতে পারেন । 
(ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল ‘উলূ, পৃ. ৯৬-৯৭; যাহাবী, আল-‘উলূ, পৃ. ৮৮,তিনি সনদকে শক্তিশালী বলেছেন। ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা—উল জুশ, পৃ. ২৫০।) 
দলীল নং - ৬
✪ আনাস (রাঃ) থেকে প্রমাণ :
‎ حَدَّثَنَا  زُهَيْرُ  بْنُ  حَرْبٍ،  أَخْبَرَنِي  عَمْرُو  بْنُ  عَاصِمٍ  الْكِلاَبِيُّ،  حَدَّثَنَا  سُلَيْمَانُ  بْنُ  الْمُغِيرَةِ،  عَنْ  ثَابِتٍ،  عَنْ  أَنَسٍ،  قَالَ  قَالَ  أَبُو  بَكْرٍ  رضى  الله   عنه  بَعْدَ  وَفَاةِ  رَسُولِ  اللَّهِ   صلى  الله   عليه  وسلم  لِعُمَرَ  انْطَلِقْ  بِنَا  إِلَى  أُمِّ  أَيْمَنَ  نَزُورُهَا  كَمَا  كَانَ  رَسُولُ  اللَّهِ   صلى  الله   عليه  وسلم  يَزُورُهَا  ‏.‏  فَلَمَّا  انْتَهَيْنَا  إِلَيْهَا  بَكَتْ  فَقَالاَ  لَهَا  مَا   يُبْكِيكِ  مَا   عِنْدَ   اللَّهِ   خَيْرٌ  لِرَسُولِهِ  صلى  الله   عليه  وسلم  ‏.‏  فَقَالَتْ  مَا   أَبْكِي   أَنْ   لاَ   أَكُونَ   أَعْلَمُ   أَنَّ   مَا   عِنْدَ   اللَّهِ   خَيْرٌ  لِرَسُولِهِ  صلى  الله   عليه  وسلم  وَلَكِنْ  أَبْكِي   أَنَّ   الْوَحْىَ  قَدِ  انْقَطَعَ  مِنَ  السَّمَاءِ  ‏.‏  فَهَيَّجَتْهُمَا  عَلَى  الْبُكَاءِ  فَجَعَلاَ  يَبْكِيَانِ  مَعَهَا  ‏.‏
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকালের পর আবূ বকর (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, চলো উম্মু আইমানের নিকট যাই, তাঁর সাথে দেখা করতে যাবো, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে দেখা করতেন। যখন আমরা তাঁর নিকট গেলাম, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, তুমি কাঁদছ কনে? আল্লাহ তা‘আলার নিকট যা কিছু আছে তা তাঁর রসূলের জন্য সর্বাধিক উত্তম। উম্মু আইমান (রাঃ) বললেন, এজন্য আমি কাঁদছি না যে, আমি জানি না আল্লাহর কাছে যা কিছু আছে, তা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য উত্তম বরং এজন্য আমি কাঁদছি যে, আকাশ হতে ওয়াহী আসা বন্ধ হয়ে গেল। উম্মু আইমানের এ কথা তাঁদেরকে কান্নাপ্লুত করে তুলল। অতএব তাঁরাও তাঁর সঙ্গে কাঁদতে শুরু করলেন। (ই. ফা. ৬০৯৬, ই. সে. ৬১৩৭)  
(সহিহ মুসলিম - ৬২১২, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।)
দলীল নং ৭ 
✪ তাবেঈ কা'ব আল-আহবার থেকে প্রমাণ: 
رواه يونس عن الزهري عن ابن المسيب عن كعب الأحبار قال : "قال الله في التوراة : أنا الله فوق عبادي، وعرشي فوق خلقي، وأنا على عرشي، أدبر أمر عبادي، ولا يخفى عليَّ شيء في السماء، ولا في الأرض".
ইউনুস, যুহরী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ইবনুল মুসাইয়াব থেকে, তিনি কা'ব আল-আহবার থেকে, কা'ব আল আহবার বলেন, আল্লাহ তাওরাতে বলেছেন, আমি আল্লাহ আমার বান্দার উপরে, আমার ‘আরশ আমার সৃষ্টিজগতের উপরে, আর আমি আমার ‘আরশের উপরে। আমি আমার বান্দার বিষয় পরিচালনা করি। আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আমার থেকে গোপন থাকে না ।
(আবুশ শাইখ,আল-‘আযামাহ, ২/৬২৫-৬২৬/হা/২৪৪; ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ, ৩/১৮৫-১৮৬, নং ১৩৭; জীলানী, গুনিয়াহ, ১/৫৭; যাহাবী, আল-‘উলূ, : ৯২; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা‘উল জুয়ূশ, ১২৯, ২৬০; আলবানী সহীহ বলেছেন, মুখতাসারুল ‘উলূ, পৃ. ১২৮।)
দলীল নং - ৮
✪ হাসান বাসরী (১১০ হিজরী) থেকে প্রমাণ:
عن الحسن البصري قال سمع يونس عليه السلام تسبيح الحصا والحيتان، فجعل يسبح، وكان يقول في دعائه : سيدي في السماء مسكنك، وفي الأرض قدرتك"
হাসান বাসরী বলেন : ইউনুস (আলাইহিস সালাম) কংকর ও মাছের তাসবীহ পাঠ শুনলেন। তারপর তিনি তাসবীহ পাঠ শুরু করলেন। তিনি তাঁর দুআয় বলতেন : ‘হে আমার রব! তোমার অবস্থান আসমানের উপরে কিন্তু তোমার ক্ষমতা জমিনে।'
এই হাদীস ইবন কুদামাহ [ইসবাতু] সিফাতিল ‘উলূতে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
(ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল ‘উলূ, পৃ. ৯৬, নং ৫৯; যাহাবী, আল-‘উলূ, পৃ- ৫৫-৫৬; আরবা‘ঈন, পৃ. ৫৭-৫৮ নং ৩৫, যাহাবী বলেন, এর সনদ সহীহ ।)
দলীল নং - ৯
✪ মাসরূক ইবন আজদা— আল-হামদানী (রহিঃ) (৬২ হিজরী) থেকে প্রমাণ।
وثبت عن مسروق أنه كان إذا حدث عن عائشة قال : حدثتني الصديقة بنت الصديق حبيبة حبيب المبرأة من فوق سبع سموات". 
মাসরূক থেকে প্রমাণিত, তিনি আয়েশা (রাঃ)
থেকে হাদীস বর্ণনা করলে বলতেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন সিদ্দীকাহ বিনত সিদ্দীক, আল্লাহর প্রিয়জন (মুহাম্মদ)-এর প্রিয়জন, সাত আসমানের উপর থেকে যাকে দোষ মুক্ত করা হয়েছে।
(ইবন সা'দ, আত-তবাকাত, ৮/৬৬; আজুররী, আশ শারী‘আহ, ৫/২৪০৪, নং ১৮৮৬; আবু নু’আঈিম, আল-হিলয়াহ, ২/৪৪, তিনি দু'সনদে বর্ণনা করেছেন যার একটি সহীহ; ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল ‘উলূ, পৃ. ১১০, নং ৮৩; যাহাবী, আল-‘উলূ, ৯২, তিনি এর সনদকে সহীহ বলেছেন।)
দলীল নং - ১০
✪ কাতাদাহ ইবন দি‘আমাহ আস-সাদূসী (১১৩ হিজরী প্রায়) থেকে প্রমান :
কাতাদাহ থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন :
قالت بنو إسرائيل يا رب أنت في السماء ونحن في الأرض، فكيف لنا أن نعرف رضاك وغضبك؟ قال : إذا رضيت عليكم استعملت عليكم خياركم، وإذا غضبت عليكم استعملت عليكم شراركم" .
বানু ইসরাঈল বলেছিল, হে রব! তুমি আসমানের উপরে আর আমরা জমিনে। কীভাবে আমরা তোমার সন্তুষ্টি ও ক্রোধ বুঝতে পারব? তিনি বলেন, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হলে, তোমাদের জন্য তোমাদের উত্তম ব্যক্তিকে নেতা বানাবো। আর অসন্তুষ্ট হলে তোমার জন্য তোমাদের মন্দ ব্যক্তিকে নেতা বানাবো ।
(দারেমী, আর-রাদ্দু ‘আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ২৭৬; ইমাম আহমাদ, আয-যুহদ, পৃ. ৩৫৭; তাতে রয়েছে “মূসা ইবন ‘ইমরান বলেছিলেন।” যাহাবী, আল-‘উলূ, পৃ. ৯৬ ও আল-আববা—ঈন, পৃ. ৫৮, নং ৩৬। তিনি দুই স্থানেই এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা—উল জুয়ূশ, পৃ. ২৫৬।)
দলীল নং - ১১
✪ ইমাম আব্দুর রাহমান ইবন ‘আমর আল-আওযা‘ঈ (রহিঃ) (১৫৭ হিজরী) থেকে প্রমাণ:
এই মতবাদ প্রকাশের প্রাক্কালে ১৫০ হিজরীর মাথায় শামবাসীদের ইমাম ছিলেন আওযা‘ঈ । তিনি বলেন,
 "كنا والتابعون متوافرون، نقول : إن الله فوق عرشه، ونؤمن  
بما وردت بها  السنةمن صفاته
আমরা ও তাবে‘য়ীগণ পর্যাপ্ত পরিমাণ ছিলাম। আমরা বলতাম—“আল্লাহ তাঁর ‘আরশের উপর এবং সুন্নায় আল্লাহর যেসব গুণ বর্ণিত হয়েছে, তার প্রতি আমরা ঈমান রাখি ৷”
(বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত, ২/৩০৪, নং ৮৬৫; ইবন বাত্তাহ, আল- ইবানাহ, পৃ. ২২৯; ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু’উল ফাতওয়া, ৫/৩৯, তিনি এর সনদ সহীহ বলেছেন; যাহাবী, সিয়ার, ৭/১২০-১২১, ৮/৪০২; আল-‘উলূ, পৃ. ১০২; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা‘উল জুয়ূশ, ১৩১, ১৩৫; তিনি বলেন, এর সনদ সহীহ; ইবন হাজার, ফাতহুল বারী, ১৩/৪০৬ )
দলীল নং - ১২ 
✪ ইমাম আবু হানিফা (রহিঃ) ( মৃত্যু ১৫০ হি:) থেকে প্রমাণ :
আবূ মুতী— হাকাম ইবন আব্দুল্লাহ বালখী আল-ফিকহুল আকবার- এ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,
سألت أبا حنيفة عمن يقول : لا أعرف ربي في السماء أو في الأرض فقال : من لم يقر أن الله على العرش قد كفر لأن الله تعالى يقول الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وعرشه فوق سبع سموات، فقلت : إنه يقول عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ، ولكن لايدري العرش في السماء أم في الأرض. فقال : إذا أنكر أنه في السماء فقد كفر"
আমি আবূ হানীফাহকে জিজ্ঞাসা করলাম এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যে বলে, আমি জানি না আমার রব আসমানের উপরে না জমিনে? তিনি বলেন— যে ব্যক্তি স্বীকার করল না আল্লাহ ‘আরশের উপরে, সে কুফুরী করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন— “পরম করুণাময় ‘আরশের উপর উঠেছেন।”  তাঁর ‘আরশ সাত আসমানের উপরে। আমি বললাম : যদি সে বলে— তিনি ‘আরশের উপরে উঠেছেন, কিন্তু জানি না ‘আরশ আসমানের উপরে না জমিনে। তিনি বললেন— ‘আরশ আসমানের উপরে থাকাকে যে অস্বীকার করল, সে কুফুরী করল।
(ফিকহুল আবসাত পৃঃ ৪৯, শারহুল ফিকহিল আবসাত লিস সামারকান্দী পৃঃ ১৭)
আবূ হানীফাহ বলেন, 
من أنكر أن الله في السماء فقد كفر۔
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর আসমানের উপরে থাকাকে অস্বীকার করল, সে কুফুরী করল।
(ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল ‘উলূ‘উলূ, ১১৬-১১৭; যাহাবী, আল-‘উলূ, ১০১- ১০২; সাফারীনী, লাওয়াইহুল আনওয়ার আস-সানিয়্যাহ, ১/৩৫৭।)
দলীল নং - ১৩ 
✪ ইমাম মালিক ইবন আনাস (রহিঃ) (১৭৯ হিজরী) থেকে প্রমাণ।
 الله عبد بن نافع قال : قال مالك بن أنس : "الله في السماء وعلمه في كل مكان". 
আব্দুল্লাহ ইবন নাফে' বলেন, মালিক ইবন আনাস বলেছেন, আল্লাহ আসমানের উপরে আর তাঁর ইলম সর্বত্র।
ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এ বক্তব্য প্রমাণিত। এ বক্তব্য ‘আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল বর্ণনা করেছেন আর-রাদ্দু ‘আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে তার পিতা থেকে, তিনি সুরাইজ ইবন নু'মান থেকে, তিনি ইমাম মালিকের খাস ছাত্র আব্দুল্লাহ ইবন নাফে' থেকে।
( ‘আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ, ১/১০৬-১০৭, নং ১১, ১/২৮০ নং ৫৩২; আবূ দাউদ, মাসায়িলু ইমাম আহমাদ, পৃ. ২৬৩; ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু‘উল ফাতওয়া, ৫/৫৩; দারুউ তা‘আরুযিল ‘আকলি ওয়ান নাকল, ৬/২৬২, তিনি এর সনদকে সহীহ বলেছেন। এছাড়া আরো অনেক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আলবানী সহীহ বলেছেন, মুখতাসারুল ‘উলূ, পৃ. ১৪০।)
سئل الإمام مالك بن أنس رحمه الله فقيل : يا أبا عبد الله الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى [طه ٥] كيف استوى؟ فقال: الاستواء غير مجهول، والكيف غير
معقول، والإيمان به واجب والسؤال عنه بدعة. ثم أمر بالرجل فأخرج.
 ইমাম মালিক ইবনু আনাসকে (রহিমাররর) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: হে আবূ আব্দির রহমান, “রহমান আরশের উপরে উঠেছেন” ৩০]। তিনি কিভাবে উঠেছেন? তিনি জবাবে বলেছিলেন: “ইস্তিওয়া (উপরে উঠা) জ্ঞাত বিষয়। তবে এর প্রকৃতি বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা বিদ'আত। এরপর মালিক (রহিমাররর) আদেশ দিলে তাকে (জিজ্ঞেসকারীকে) সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়।
( লুমআতুল ইতিক্বদ পৃঃ-২২, বায়হাকি আল উলু পৃঃ ১০৪,  তিনি বলেন, এ বক্তব্য প্রমাণিত)
দলীল নং - ১৪
✪ ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) (মৃঃ ২০৪ হি) এর থেকে প্রমাণ :
ইবন আবী হাতিম বলেন, আমি ইউনুসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি শাফে‘য়ীকে বলতে শুনেছি,
لله أسماء وصفات لا يسع أحدا قامت عليه الحجة ردها، فإن خالف بعد ثبوت الحجة عليه فهو
كافر، فأما قبل ثبوت الحجة عليه فمعذور بالجهل، لأن علم ذلك لا يدرك بالعقل، ولا بالروية
والفكر، ونثبت هذه الصفات وننفي عنها التشبيه، كما نفى عن نفسه، قال لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ
আল্লাহর রয়েছে অনেক নাম ও গুণাবলী। দলীল দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার কারো সুযোগ নেই, তা প্রত্যাখ্যান করা। দলীল দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পরে কেউ তার বিরোধিতা করলে সে কাফির। আর দলীল দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে করলে অজ্ঞতার ওজর রয়েছে। কেননা নাম ও গুণাবলীর জ্ঞান বিবেক, দর্শন ও চিন্তা-ভাবনা দ্বারা অর্জন হয় না। আমরা এসব গুণাবলী সাব্যস্ত করি এবং তাঁর থেকে সাদৃশ্যকে অস্বীকার করি, যেমনিভাবে আল্লাহ নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন। আল্লাহ বলেছেন, তোরা দেন। এবং এই বলে “তার মতো কোনোকিছুই নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।'
এটি শাইখুল ইসলাম [আবুল হাসান আল-হাক্কারী] বর্ণনা করেছেন; শাফে'য়ীর আকীদায়, তাছাড়া অন্যরাও তা বর্ণনা করেছেন। সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
( ইবন আবী ইয়া'লা, তবাকাতুল হানাবিলাহ, ১/২৮৩-২৮৫; ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল ‘উলূ, ১২৩-১২৫ নং ১০৮-১০৯; যাহাবী, আল-‘উলূ, ১২১, কিতাবুল আরশ -২০৩)
দলীল নং - ১৫
✪ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ২৪১ হিজরী) থেকে প্রমাণ। 
ইউসুফ ইবন মূসা আল-কাত্তান বলেন,
وقيل لأبي عبد الله : الله فوق السماء السابعة على عرشه، بائن من خلقه، وعلمه وقدرته بكل
مكان؟ قال : نعم
আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলা হলো, আল্লাহ সাত আসমানের ঊর্ধ্বে তাঁর ‘আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সর্বত্র?
তিনি বললেন, হ্যাঁ।
এটি খাল্লাল ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন।
( ৩৫৩. ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ, ৩/১৫৯/হা ১১৫; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ, ৩/৪০১-৪০২, নং ৬৭৪; ইবনু কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল ‘উলূ, ১১৬, নং ৯৬; যাহাবী, আল-‘উলূ, ১২৯; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা—উল জুয়ূশ, ২০০,  কিতাবুল আরশ-২১১)
✍️ রাজিব রেজা 
🧾 মাস্টার্স অধ্যয়নরত, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা। 
===================✪✪✪✪✪=================
(⊕) কপি ও শেয়ার করুনঃ
➤ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ভাল কাজের পথ দেখাবে, সে তার প্রতি আমলকারীর সমান নেকী পাবে।’’ ( সহীহ মুসলিম ৪৭৯৩, তিরমিযী ২৬৭১, আবূ দাউদ ৫১২৯ মান: সহীহ)
➤ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)  বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। (সহীহ মুসলিম--৬৬৯৭,তিরমিযী ২৬৭৪, আবূ দাঊদ ৪৬০৯, দারিমী ৫১৩, ইবনে মাজাহ-২০৬  মান: সহীহ)

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন