ঘুমানোর আগে অন্তর পরিষ্কার করুন! জান্নাতী হওয়ার এক সহজ অভ্যাস।
অনেকেই আমরা মনে করি, কেবল রাতভর নফল ইবাদত জান্নাত নিশ্চিত। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাহ আমাদের শেখায় যে, আমলনামার পাশাপাশি আমাদের 'কলব' বা অন্তর কতটা পরিষ্কার, তার ওপর জান্নাত পাওয়া নির্ভর করে। ইনশাআল্লাহ
এক জান্নাতী সাহাবীর বিস্ময়কর গল্প!
রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) একদিন সাহাবীদের মাঝে বসে বললেন, "এখন তোমাদের মাঝে এক জান্নাতী ব্যক্তি প্রবেশ করবেন।" দেখা গেল একজন সাধারণ আনসার সাহাবী ওযুর পানি দাড়ি দিয়ে ঝরানো অবস্থায় প্রবেশ করলেন।
এভাবে টানা তিনদিন রাসুল (ছাঃ) একই কথা বললেন এবং তিন দিনই সেই একই ব্যক্তি আসলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সেই ব্যক্তির বিশেষ আমল দেখার জন্য তার বাড়িতে তিনদিন মেহমান হলেন। কিন্তু তিনি অবাক হয়ে দেখলেন,
সেই ব্যক্তি খুব বেশি নফল ছালাত পড়ছিলেন না।
তবে ঘুমানোর সময় এবং ঘুমের মধ্যে পাশ ফেরার সময় আল্লাহর জিকির ও তাকবির পাঠ করতেন।
ঘুমের মাঝে জাগ্রত হয়ে তিনি এই দোয়াটি পাঠ করতেন,
‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর...’
(সহীহ বুখারী হা/১১৫৪; মিশকাত হা/১২১৩)
তিন দিন পর আব্দুল্লাহ (রাঃ) যখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে তাঁর বিশেষ আমলটি কী, তখন সেই সাহাবী উত্তর দিলেন,
"আমি যা আমল করি তা আপনি দেখেছেন। তবে বিশেষ দিক হলো— আমি আমার হৃদয়ে কোনো মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষ রাখি না এবং আল্লাহ কাউকে কোনো নেয়ামত দিলে আমি তার প্রতি কখনো হিংসা করি না।"
আব্দুল্লাহ (রাঃ) মন্তব্য করলেন, "এই গুণটিই আপনাকে এই মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে, যা অর্জন করা আমাদের জন্য বেশ কঠিন।"
কেন আমরা হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করব?
১. ক্ষমা পাওয়ার প্রতিবন্ধকতা...
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা খোলা হয় এবং মুমিনদের ক্ষমা করা হয়। কিন্তু যাদের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ থাকে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন— "এদেরকে পরস্পরে মীমাংসা করার সুযোগ দাও (ততক্ষণ ক্ষমা স্থগিত রাখো)।"
২. ভ্রাতৃত্বের আদেশঃ-
রাসুল (ছাঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন মানুষের দোষ খোঁজা এবং একে অপরের প্রতি হিংসা করা থেকে। তিনি বলেছেন,
"তোমরা হিংসা করো না, বিদ্বেষ করো না... তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে সকলে ভাই ভাই হয়ে যাও।"
৩. মুমিনদের বৈশিষ্ট্যঃ-
একজন প্রকৃত মুমিনের অন্তর হবে পরিষ্কার। পবিত্র কুরআনে আনসার সাহাবীদের প্রশংসা করে বলা হয়েছে যে, মুহাজিরদের যা দান করা হয়েছে তার জন্য আনসাররা তাদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা অনুভব করেন না।
হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণ করা মানে হলো নিজের শান্তি নিজে নষ্ট করা। অন্যের সফলতা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া আসলে আল্লাহর ফয়সালার ওপর অসন্তুষ্ট হওয়ার শামিল।
অন্তর পরিষ্কার করুনঃ-
ঘুমানোর আগে প্রতিদিন সবাইকে ক্ষমা করে দিন।
দোয়া করুনঃ- অন্যের ভালো দেখে তার জন্য বারাকাহর দোয়া করুন।
জিকির করুনঃ- রাতে ঘুমের ঘোরে বা পাশ ফেরার সময় আল্লাহর জিকির ও তাসবীহ পাঠের অভ্যাস করুন।
আসুন, আমরা আমাদের সমাজ থেকে হিংসা, চক্রান্ত এবং পরনিন্দা দূর করি। আমাদের অন্তরগুলোকে এমনভাবে তৈরি করি যাতে আমরাও সেই আনসারী সাহাবীর মতো জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে একটি সুস্থ ও পবিত্র হৃদয়ের (কালবে সালীম) অধিকারী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন