প্রাসাদের বিলাসিতা নয়, মদিনার অলিগলিই ছিল যার কর্মস্থল।
.
খলিফা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন এমন একজন শাসক, যিনি প্রাসাদে বসে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন না। তিনি মনে করতেন, শাসকের আসল দায়িত্ব মানুষের বাস্তব অবস্থা নিজের চোখে দেখা। এ কারণে তিনি প্রায়ই রাতে ছদ্মবেশে মদিনার অলিগলি ঘুরে দেখতেন—কেউ কষ্টে আছে কি না।
.
এক রাতে তিনি এমনই এক সফরে বের হন। দূরের একটি ঘর থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ ভেসে আসে। কান্না দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল। উমার (রা.) থেমে যান এবং ঘরের দরজায় গিয়ে ভেতরের অবস্থা জানতে চান। ঘরে ছিলেন এক দরিদ্র মহিলা ও তাঁর ছোট ছোট কয়েকটি শিশু। ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদছিল।
.
খলিফা উমার জিজ্ঞেস করলেন, “শিশুরা কেন কাঁদছে?” মহিলাটি উত্তর দিলেন, “ঘরে একটুও খাবার নেই, তাই ক্ষুধার কষ্টে কাঁদছে। আমি হাঁড়িতে শুধু পানি জ্বাল দিচ্ছি, যেন ওরা ভাবে খাবার রান্না হচ্ছে আর কিছুক্ষণ চুপ থাকে।”
.
উমার জানতে চাইলেন, “তোমরা কার শাসনে আছ?” মহিলা বললেন, “উমারের শাসনে।” তারপর কষ্ট আর ক্ষোভে তিনি বললেন, “আল্লাহ উমারকে জবাবদিহি করাবেন। সে জানেই না আমরা কী কষ্টে আছি!”
.
মহিলাটি জানতেন না যে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিই খলিফা উমার। এই কথা শুনে উমার (রা.) গভীরভাবে ব্যথিত হন। তিনি আর কোনো কথা না বলে দ্রুত বাইতুল মালে যান। সেখানে গিয়ে নিজ হাতে আটার বস্তা, তেল ও কিছু খেজুর তুলে নেন।
.
তার সঙ্গে থাকা খাদেম বললেন, “হে আমিরুল মুমিনিন, আমাকে দিন, আমি বয়ে নেব।” উমার দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, “কিয়ামতের দিন আমার গোনাহের বোঝা কি তুমি বহন করবে?”
এরপর তিনি নিজ কাঁধে আটার বস্তা বহন করে সেই দরিদ্র মহিলার ঘরে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে শুধু খাবার দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; নিজ হাতে আগুন জ্বালালেন, আটা মাখালেন এবং রান্না করলেন। বলা হয়, আগুনের ধোঁয়া তার দাড়ির ভেতর দিয়ে বের হচ্ছিল, কিন্তু তিনি থামেননি।
.
তিনি নিজ হাতে শিশুদের খাওয়ালেন। যখন দেখলেন শিশুরা তৃপ্ত হয়ে হাসছে এবং খেলছে, তখনই তিনি উঠে দাঁড়ালেন। যাওয়ার আগে মহিলাকে বললেন, “কিছু দরকার হলে কাল খলিফার কাছে এসো।”
.
এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে শাসকের দায়িত্ববোধ, বিনয়, দয়া এবং আল্লাহভীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উমার (রা.) প্রমাণ করে গেছেন যে—নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।
.
সাহাবিদের জীবনের এমন অসংখ্য অনুপ্রেরণামূলক ও ঈমানদীপ্ত ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের 'সাহাবিদের অনন্য জীবন' বইটি। তাদের অবিচল ঈমানি দৃঢ়তা থেকে জীবন গড়ার সঠিক পাথেয় খুঁজে পেতে বইটি আপনাকে দারুণভাবে সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ। সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা নিতে আজই সংগ্রহ করুন আপনার কপি!
.
সমকালীন প্রকাশন
সুন্দর জীবনের জন্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন