ইসলামে মুতা (সাময়িক) বিবাহের বিধান: কিয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ

 

👉 ইসলামি শরিয়তে মুতা বিবাহ (নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক বিয়ে) সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নিষিদ্ধ। এটি ইসলামের স্থায়ী, পবিত্র ও দায়িত্বশীল বিবাহ ব্যবস্থার পরিপন্থী।
---
📖 কুরআনের আলোকে বিবাহের প্রকৃতি:
🔹 স্থায়ী ও পবিত্র বন্ধন:
«وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ
📌 “মুমিনরা নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে, তবে তাদের স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ব্যতীত...”
(সূরা মুমিনুন: ৫–৬)»
🔹 মোহর প্রদান বাধ্যতামূলক (স্থায়ী বিবাহে):
«فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً
📌 “তোমরা যাদের সাথে (বৈধভাবে) উপভোগ করো, তাদেরকে নির্ধারিত মোহর প্রদান করো।”
(সূরা নিসা: ২৪)»
👉 এই আয়াতে স্থায়ী বিবাহের পর সহবাস হলে পূর্ণ মোহর আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—মুতা বৈধতার প্রমাণ নয়।
---
📜 হাদিসের আলোকে মুতা বিবাহের নিষেধাজ্ঞা:
🔸 সহিহ মুসলিম (হাদিস: ১৪০৬):
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«“আমি তোমাদের পূর্বে মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আল্লাহ তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন।”»
🔸 সহিহ বুখারি (হাদিস: ৪২১৬):
হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
«“নবী ﷺ খায়বারের দিনে মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন।”»
---
⚖️ নাসিখ ও মানসুখ (বিধান রহিত হওয়া):
👉 ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক অনুমতি ছিল।
👉 কিন্তু পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ ﷺ তা স্থায়ীভাবে রহিত (মানসুখ) করে দেন।
👉 ফলে আজ কিয়ামত পর্যন্ত এটি চিরতরে হারাম।
---
❗ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
✔ মুতা বিবাহে নেই—
• স্থায়ী সংসার
• উত্তরাধিকার
• তালাকের বিধান
✔ অথচ ইসলামে বিবাহ মানে—
💚 দায়িত্ব
💚 ভালোবাসা
💚 পরিবার গঠন
---
🚫 উপসংহার:
👉 মুতা বিবাহ ইসলামে বৈধ নয়, বরং এটি জিনার মতোই একটি গুরুতর অপরাধের পথ খুলে দেয়।
👉 কুরআনের ভাষায়, বিবাহের উদ্দেশ্য “মুহসিনীন” (পবিত্রতা অর্জন)—শুধু কামনা পূরণ নয়।
📌 তাই একজন মুমিনের জন্য আবশ্যক—
✔ স্থায়ী ও শরীয়তসম্মত বিবাহ করা
✔ হারাম পথ থেকে দূরে থাকা

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন