হাদীসের আলোকে অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছোট ছোট ৭০(সত্তর) টি আমল

হাদীসের আলোকে অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছোট ছোট ৭০(সত্তর) টি  আমল!!⤵️👇
****************************************
     ■■ আমল নং- ০১]
●▪প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ করা! (আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারী কা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ)! 
■▪ফযীলতঃ এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করা যাবে।
▪[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৩৪।]
     ■■ ️আমল নং- ০২]
●▪প্রত্যেক ফরজ সালাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা! 
■▪ফযীলতঃ এতে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে যাওয়া  যাবে।
▪[সহিহ নাসাই, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৯৭২।]
     ■■ ️আমল নং- ০৩]
●▪প্রত্যেক ফরয সালাত শেষে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং ১ বার (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আ'লা কুল্লি শাই’ইন কাদীর) পাঠ করা। 
■▪ফযীলতঃ এতে পাঠকারীর অতীতের সব গুনাহ (সব ছোট গুনাহ) মাফ হয়ে যাবে। 
▪[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১২২৮।] সেই সাথে জাহান্নাম থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে। কেননা দিনে ৩৬০ বার এই তাসবিহগুলো পড়লেই জাহান্নাম থেকে মুক্ত রাখা হয়। আর এভাবে ৫ ওয়াক্তে ৫০০ বার পড়া হচ্ছে।
▪[সহিহ মুসলিম, মিশকাত হাদিস নং- ১৮০৩]।
     ■■ ️আমল নং-০৪]
●▪প্রতি রাতে সূরা মুলক পাঠ করা। 
■▪ফযীলতঃ এতে পাঠকারীকে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি দেওয়া হবে বা কবর আযাব থেকে মুক্ত থাকবেন।
▪[সহিহ নাসাই, সহিহ তারগিব, হাকিম হাদিস নং- ৩৮৩৯, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ১১৪০।]
     ■■ ️আমল নং-০৫]
●▪রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সকালে ১০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০ বার দরুদ পড়া। 
■▪ফযীলতঃ এতে পাঠকারী নিশ্চিত ভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশ পাবেন।▪[তাবরানি, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫৬]।
     ■■ আমল নং-০৬]
●▪সকালে ১০০ বার এবং বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি পাঠ করা। ■▪ফযীলতঃ পাঠকারীকে সৃষ্টিকুলের সমস্ত মানুষ থেকে বেশী মর্যাদা দেওয়া হবে। 
▪[সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং- ৫০৯১।]
●▪হজরত জাবের(রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
-------"যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি' পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।
▪[তিরমিজি : ৩৪৬৪]
     ■■ ️আমল নং- ০৭]
●▪প্রতি দিন কালে ১০০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি" পাঠ করা।
■▪ফযীলতঃ নিয়মিত পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশী সওয়াব আর কারো হবে না।
▪[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৯২।]
     ■■ ️আমল নং- ০৮]
●▪প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ১০০ বার আল্লাহু আকবার এবং ১০০ বার লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর পাঠ করা।
■▪ফযীলতঃ নিয়মিত পাঠ করলে অগণিত সওয়াব হবে।
▪[নাসাই, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫১।]
     ■■ ️আমল নং- ০৯]
●▪বাজারে প্রবেশ করে- (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু য়্যুহয়ী ওয়া য়্যুমীতু ওয়া হুয়া হাইয়ুল লা য়্যামূতু, বিয়াদিহিল খাইর, ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইং কাদীর) পাঠ করা। 
■▪ফযীলতঃ এতে ১০ লক্ষ পুণ্য হবে, ১০ লক্ষ পাপ মোচন হবে, ১০ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি হবে এবং জান্নাতে পাঠকারীর জন্য ১ টি গৃহ নির্মাণ করা হবে।
▪[তিরমিজি, হাদিস নং- ৩৪২৮,৩৪২৯।]
     ■■ ️আমল নং- ১০]
●▪বাড়িতে সালাম দিয়ে প্রবেশ করা।
■▪ফযীলতঃ এতে আল্লাহ তা’লা নিজ জিম্মাদারিতে পাঠকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
▪[ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪৯৯, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৩১৬।]
     ■■ আমল নং- ১১]
●▪জামাতে ইমামের প্রথম তাকবীরের সাথে ৪০ দিন সলাত আদায় করা।
■▪ফযীলতঃ এতে নিশ্চিত ভাবেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
▪[তিরমিজি, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৭৪৭, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৪০৪]।
     ■■ ️আমল নং- ১২]
●▪প্রতিমাসের আয়ের একটা অংশ এতিমখানা বা মসজিদ মাদ্রাসা বা গরিব-দুখি, বিধবা ও দুস্থদের মাঝে দান করা।
■▪ফযীলতঃ এই দানের পরিমাণ হোক সেটা অতি অল্প,  দানকারী আল্লাহ তা’লার কাছে জিহাদকারির সমতুল্য হবেন।
▪[সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৬০০৭।]
      ■■ ️আমল নং- ১৩[
●▪মহিলারা ৪টি কাজ করবেন। যথাঃ▪১) ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা;▪২) রমযানের সিয়াম পালন করা,▪৩) লযযাস্থানের হিফাযত করা এবং▪৪) স্বামীর আনুগত্য করা। 
■▪ফযীলতঃ এই আমলের ফলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
▪[সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪১৬৩।]
      ■■ ️আমল নং- ১৪]
●▪মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করে বসে বিভিন্ন দু'আ/জিকির/দরুদ পাঠ/কুরআন পাঠ করা এবং সূর্য উঠে গেলে কমপক্ষে ২ রাকা'আত ইশরাক এর সালাত আদায় করা। 
■▪ফযীলতঃ এতে প্রতিদিন নিশ্চিত কবুল ১ টি হজ্জ ও উমরার সওয়াব পাওয়া যাবে।
▪[তিরমিজি, তারগিব হাদিস নং- ৪৬১।]
     ■■ ️আমল নং- ১৫]
●▪প্রতিটি ভালো কাজ ডান দিক দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা।
     ■■ ️আমল নং- ১৬]
●▪ঘুম থেকে উঠে ঘুমের দু'আ পড়া।
     ■■ ️আমল নং- ১৭]
●▪বাথরুমে যেতে দু'আ পড়ে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে বের হয়ে দু'আ পড়া। [বাথরুমে কোন দুয়া পড়া যাবে না]
     ■■ আমল নং- ১৮]
●▪ওযুর পূর্বে মিসওয়াক করার অভ্যাস করা। -ওযুর শুরুতে এবং শেষে হাদিসে বর্ণিত দু'আ পড়া।
     ■■ আমল নং- ১৯]
● ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে দু'আ পড়ে বের হওয়া এবং প্রবেশের সময় ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে সালাম দেওয়া। যদিও ঘরে কেউ থাকুক বা না থাকুক, সালাম দেওয়া সূন্নাহ, আল্লাহর হুকুম। যদি ঘরে কেউ না থাকে তবে এই সালাম দেওয়া হবে ঘরের ফিরিশতাদের জন্য।
     ■■ আমল নং- ২০]
●▪মসজিদে ডান পা দিয়ে দরূদ ও দু'আ পড়ে ঢুকা এবং বাম পা দিয়ে দরূদ ও দু'আ পড়ে বের হওয়া।
     ■■ আমল নং-২১]
●▪রাস্তার ডানপাশ দিয়ে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। না পারলে ভিন্ন কথা।
     ■■ ️আমল নং- ২২]
●▪ফরজ সালাত শেষে হাদিসে বর্ণিত যিকির এবং দু'আর আমল করা। ফজর ও মাগরিবের পর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়া, সায়্যিদুল ইসতিগফার পাঠ করা এবং চার ক্বুল পড়ে শরীর দম করা, ই্ত্যাদি হাদিসে বর্ণিত আমল করা।
     ■■ ️আমল নং- ২৩]
●▪আযানের জবাব দেওয়া, আযানের পর হাদীসে বর্ণিত দু'আ পড়া এবং চলতে ফিরতে ছোট বড় সকলকে সালাম দেওয়া। সালাম দিয়ে কথা শুরু ও শেষ করা। শুদ্ধভাবে সালাম দেয়া।
     ■■ ️আমল নং- ২৪]
●▪জামা ও জুতা পরার সময় ডান দিক থেকে পরা এবং খুলার সময় বামদিকে আগে খুলা। সম্ভব হলে হাদীসে বর্ণিত দু'আ সমূহ মুখস্থ করে আমলের অভ্যাস করা।
     ■■ ️আমল নং- ২৫]
●▪পানি পান করার সময় ৬টি সূন্নাত ভালোভাবে মেনে পানি পান করার চেষ্টা করা।
     ■■ আমল নং- ২৬]
●▪ভাত বা যেকোন খাবার খাওয়ার সময় সমতল জায়গায় বসে দস্তরখানা বিছিয়ে বিসমিল্লাহ বলে দু'আ পড়ে খাওয়া, কিছু পরে গেলে তুলে ধুয়ে খাওয়া এবং খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ পড়া।
     ■■ আমল নং- ২৭]
●▪ঘুমানোর আগে সূরা মূলক তিলাওয়াত করা, চার ক্বুল(কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস) পড়ে তিনবার শরীর দম করা, ঘুমের দু'আ পড়া, আয়াতুল কুরসী পড়া এবং ২১ বার বিসমিল্লাহ শরীফ পড়ে ডান কাত হয়ে শোয়া।
     ■■ ️আমল নং- ২৮]
●▪ঘুমের মাঝখানে কোন খারাপ স্বপ্ন দেখলে উঠে বামপাশে তিনবার থু থু ফেলা এবং আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম পড়ে আল্লাহর কাছে শয়তানের হাত থেকে পানাহ চাওয়া।
     ■■ ️আমল নং- ২৯]
●▪আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা।
-------‘‘কেউ যদি চায় যে তার মূলধন বৃদ্ধি করা হোক এবং বয়স দীর্ঘ করা হোক, তবে তাকে বল, সে যেন আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’’
▪[বুখারী, মুসলিম]
     ■■ ️আমল নং- ৩০]
●▪২টি পবিত্র হারামে (মক্কা ও মাদীনা) সালাত পড়া।
-------‘‘আমার এই মাসজিদে সালাত পড়া অন্য কোথাও ১ হাজার বার সলাত পড়ার চেয়েও উত্তম, শুধুমাত্র মাসজিদুল হারাম ছাড়া এবং মসজিদুল হারাম এ সালাত পড়া অন্য কোথাও একশ হাজার বার সালাত পড়ার চেয়ে উত্তম।’’
▪[আহমাদ, ইব্ন মাজাহ]
     ■■ আমল নং- ৩১]
●▪জামা’আতে সলাত পড়া।
-------‘‘জামা’আতে সালাত পড়া একাকী সিলাত পড়ার চাইতে ২৭ গুন বেশী মর্যাদার।’’
▪[বুখারী, মুসলিম]
✔️আমল : ৩২
●▪বিশেষ করে ইশা এবং ফজর জামা’আতে পড়া।
-------‘‘যে ব্যক্তি ইশার সালাত জামা’আতে পড়ল সে যেন অর্ধেক রাত ইবাদাত করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতে পড়ল সে যেন পুরো রাত ইবাদাত করল।"
▪[মুসলিম]
■■ ️আমল নং- ৩৩]
●▪নফল সালাত বাসায়/ঘরেপড়া।
-------"ফরজ সালাত ছাড়া মানুষের সালাতের মধ্যে সেই সালাত উৎকৃষ্ট, যা সে ঘরে পড়ে।’’ 
▪[বুখারী , মুসলিম]
     ■■ আমল নং- ৩৪]
●▪জুমু'আর দিনের ইবাদাত গুলো পালন করা।
-------‘‘যে জুমু‘আর দিনে গোসল করে , তারপর প্রথম খুৎবার পূর্বেই উপস্থিত থাকে, পায়ে হেটেঁ আসে, ইমামের কাছে বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনে ও কোন কথা না বলে -- তাহলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর সালাত পড়া ও রোজা রাখার সমান সওয়াব পাবে।’’ 
▪[আহল-আস-সুনান]
-------হজরত আউস ইবনে আউস আস্সাকাফি(রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করবে, অতঃপর কোনো রকম যানবাহনে না চড়ে হেঁটে আগে আগে মসজিদে যাবে, ইমামের নিকটবর্তী বসবে, চুপ থাকবে এবং অনর্থক কথা বলা থেকে বিরত থাকবে, তবে তার জন্য বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রতি কদমে এক বছরের রোজা ও কিয়ামুল লাইলের সওয়াব লেখা হবে।"
▪[আবু দাউদ : ৩৪৫]
     ■■ ️আমল নং- ৩৫]
●▪ইশরাক এর সালাত পড়া।
-------‘‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতের সাথে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আল্লাহর যিকর করে, তারপর দু’ রাকাআত সালাত পড়ে, সে যেন হজ্জ এবং ওমরাহর সওয়াব পূর্ণ করল। [রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম একথাটি ৩বার জোরে জোরে পুনরাবৃত্তি করলেন।] 
▪[আত-তিরমিজি]
     ■■ আমল নদ- ৩৬]
●▪ইলমের জন্য মাসজিদে যাওয়া।
-------‘‘যে দুনিয়াবি কোন কারণ ছাড়া দ্বীনি ইলম শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে মাসজিদে যায়, সে ঐ ব্যক্তির মত যে তার হজ্জ্ব পূর্ণ করেছে।’’ 
▪[আত তাবারানী]
     ■■ আমল নং- ৩৭]
●▪রমজানে ওমরাহ পালন করা।
-------"রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ্জ করার সমান।’’ 
▪[বুখারী]
     ■■ ️আমল নং- ৩৮]
●▪মসজিদে ফরজ সালাত আদায় করা।
-------‘‘যে ব্যক্তি নিজের গৃহ থেকে পবিত্রতা অর্জন করে (অজু ও প্রয়োজনে গোসলও করে) আল্লাহর গৃহের মধ্য থেকে কোন একটি গৃহের দিকে যায়, আল্লাহর ফরজের মধ্য থেকে কোন একটি ফরজ আদায় করার উদ্দেশ্যে, তার একটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং অন্য পদক্ষেপটি তার একটি মর্যাদা উন্নত করে।’’
▪[মুসলিম]
     ■■ ️আমল নং- ৩৯]
●▪জামা’আতে প্রথম সারিতে দাড়ানোর চেষ্টা করা।
-------‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম সারির জন্য ৩ বার এবং দ্বিতীয় সারির জন্য ১ বার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।’’ 
▪[আন নাসাঈ, ইবন মাজাহ]
     ■■ আমল নং- ৪০]
●▪মদীনার মাসজিদুল কুবায় সালাত পড়া।
-------‘‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে নিজেকে পবিত্র করে, তারপর মাসজিদুল কু’বায় আসে এবং সালাত পড়ে, সে যেন ওমরাহর সওয়াব পেল।’’ 
▪[আন নাসাঈ, ইবন মাজাহ]
     ■■ আমল নং- ৪১]
●▪আযানের জবাব দেওয়া।
------‘‘যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তার পুনরাবৃত্তি করে যাও। যখন আযান শেষ হয় তখন (দু'আ )চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।’’
▪[আবু দাউদ, আন নাসাঈ]
     ■■ আমল নং- ৪২]
●▪রমজানের এবং শাওয়ালের রোজা রাখা।
-------‘‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখলো, তারপর শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখলো সে যেন এক বছর রোজা রাখলো।’’
▪[মুসলিম]
     ■■ ️আমল নং- ৪৩]
●▪প্রত্যেক মাসে ৩টি(আইয়্যামে বীজের) রোজা রাখা।
-------‘‘প্রত্যেক মাসে ৩টি রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমান।’’ 
▪[বুখারী, মুসলিম]
     ■■ ️আমল নং- ৪৪]
●▪রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতারি করানো।
-------‘‘যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় সে তার (রোজাদার) সমান প্রতিদান পায়, কিন্তু এর ফলে রোজাদারের প্রতিদানের মধ্যে কোন কমতি হবে না।’’
▪[তিরমিজি, ইবন মাজাহ]
     ■■ আমল নং- ৪৫]
●▪লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদাত করা।
-------‘‘মর্যাদাপূর্ণ এ রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।"
▪[ক্বদর, ৯৭:৩]
     ■■ ️আমল নং- ৪৬]
●▪আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
-------‘‘একজন ব্যক্তির আল্লাহর পথে জিহাদের সারিতে দাড়ানো, ৬০ বছর ইবাদাতের চেয়েও উত্তম।’’ 
▪[আল-হাকিম]
     ■■ ️আমল নং- ৪৭]
●▪রাতে পাহারা দেওয়া।
-------‘‘একদিন ও একরাত স্বদেশের (মুসলিম দেশের সীমান্ত, যেখানে শত্রুর হামলার আশঙ্কা আছে) সীমান্ত পাহারা দেয়া এক মাস ধরে রোজা রাখা ও রাতে ইবাদাত করার চাইতে বেশী মূল্যবান। এ অবস্থায় যদি সে মারা যায় তাহলে যে কাজ সে করে যাচ্ছিল, মারা যাবার পরও তা তার জন্য জারী থাকবে। তার রিযকও জারী থাকবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকেও সে থাকবে সুরক্ষিত।"
▪[মুসলিম]
     ■■ আমল নং- ৪৮]
●▪যুল হিজ্জা এর প্রথম ১০ দিন বেশী বেশী ইবাদাত করা।
-------‘‘এমন কোন দিন নেই যেদিনে কৃত আমল এসব দিন অর্থাৎ যুল হিজ্জা এর প্রথম ১০দিনের নেক আমলের মত আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়।’’ সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘ইয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেকী) আমল ও কি নয়?’ তিনি বললেনঃ ‘‘না! আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেকী) আমলও নয়। তবে যে ব্যক্তি তাদের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হল এবং এর কোনটা নিয়েই আর ফিরে আসল না সে ছাড়া।’’ 
▪[বুখারী]
     ■■ আমল নং- ৪৯]
●▪কুরআনের সূরাগুলো বার বার তিলাওয়াত করা।
-------"ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ কুরআনের এক তৃতীয়াংশ এবং ‘ক্বুল ইয়া আইযুহাল কাফিরুন’ কুরআনের চার ভাগের এক ভাগ।" 
▪[আত তাবারানী]
     ■■ আমল নং- ৫০]
●▪ইসতিগফার পাঠ করা।
-------‘‘যে ব্যক্তি ঈমানদার নারী পুরুষের জন্য ইসতিগফার করে, আলাহ প্রত্যেকের জন্য ১টি করে নেক আমল লিখে দেন।" 
▪[রিয়াদুস সালেহিনম: ৫১]
     ■■ আমল নং- ৫১]
●▪মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা।
-------‘‘যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আলাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করে দেন। যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের কোন অসুবিধা (বিপদ) দূর করে দেয়, আলাহ এর বিনিময়ে কিয়ামাতের দিন তার কষ্ট ও বিপদের অংশ বিশেষ দূর করে দিবেন।’’
▪(আল-হাদীস)
     ■■ আমল নং- ৫২]
●▪যিকর করা।
-------‘‘সুবহানালা-হি ওয়াল হামদু লিলা-হি, ওয়ালা ইলা-হা ইলালাহ-হু আলাহু আকবার’’ এই কালিমাগুলো বলা, সূর্য যে সমস্ত জিনিসের ওপর উদিত হয়, সেই সমুদয় জিনিসের অপেক্ষা অধিকতর প্রিয়।"
▪[মুসলিম]
     ■■ ️আমল নং- ৫৩]
●▪পারে হেটে মসজিদে গিয়ে সালাত পড়া।
-------‘‘আলাহ পাক কি তোমাদের জন্য ইশার সালাত জামা’আতে পড়া হজ্জের সমান এবং ফজরের সালাত জামা’আতে পড়া ওমরাহর সমান করেন নি’’ এবং ‘‘যে ফরজ সালাত জামা’আতে পড়ার জন্য হেঁটে যায়, তা হজ্জের সমান এবং যে নফল সালাত পড়ার জন্য হেঁটে যায়, তার সওয়াব নফল ওমরাহর সমান।’’ 
▪[সহীহ আল জামি: ৬৪৩২]
     ■■ আমল নং- ৫৪]
●▪ফজরের সালাতের পরে ঐ স্থানে বসে থেকে দু'আ পাঠ করা।
-------‘‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতের সাথে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আলাহর যিকর করে, তারপর দু’ রাকাআত সালাত পড়ে, সে যেন হজ্জ এবং ওমরাহর সওয়াব পূর্ণ করল। [রসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম একথাটি ৩বার জোরে জোরে পুনরাবৃত্তি করলেন।] 
▪[আত-তিরমিজি]
●▪‘‘সাহাবীরা বললেনঃ ইয়া রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম! ধনীরা তো আখিরাতে বেশী পুরস্কার পাবে, তারা হজ্জ আদায় করে, আমরা পারি না!তারা জিহাদ করে এবং আমরা পারি না! রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসালাম বললেনঃ "আমি কি তোমাদের এ রকম কিছুর কথা বলব না, যদি তোমরা এটি শক্ত করে ধরে রাখ, তাহলে তোমরা তাদের মত সওয়াব অর্জন করতে পারবে। তাহল প্রত্যেক সালাতের পর আলাহু আকবার ৩৪ বার, সুবহান আলাহ ৩৩ বার এবং আলহামদুলিলাহ ৩৩ বার বলা।’’
     ■■ ️আমল নং- ৫৫[
●▪অন্যের জন্য দু'আ করা।
-------‘‘যখন কেউ তার ভাইয়ের জন্য দু’আ করে, তখন ফিরিশতারা বলেন,‘ আমিন, তোমার জন্যও তা।’’ 
▪[সাহীহ আল জামি: ২১৪৩] 
-------হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি আপনার নিকট কঠিন দুরবস্থা (অল্প ধনে জনের আধিক্য), দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দ ভাগ্য এবং দুশমন এর-হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি(আ-মীন)"
▪[মুসলিম]
     ■■ ️আমল নং- ৫৬]
●▪"সুবহানাল্লাহি ওরা বি হামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আ'যীম" পাঠ করা।
-------'হজরত আবু হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী, আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। সেটি হলো, 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।" 
▪[বুখারি : ৬৪০৬]
     ■■ আমল নং- ৫৭]
●▪সদকায়ে জারিয়াহ।
-------রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি জিনিস বন্ধ হয় না।▪সদকায়ে জারিয়াহ।▪ওই ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং▪সুসন্তান, যে তার মৃত বাবার জন্য দু'আ করে।" 
▪[তিরমিজি : ১৩৭৬]
     ■■ আমল নং- ৫৮]
●● সুরা ইখলাস বেশি বেশি তিলাওয়াত করা।
-------রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "তোমরা কি কেউ প্রতি রাতে কুরআন শরিফের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অক্ষম? তাহলে সে প্রতি রাতে সুরা ইখলাছ পড়বে। তাহলে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতের সওয়াব পাওয়া যাবে।"
▪[মুসনাদে আহমদ : ২৩৫৫৪]
     ■■ আমল নং- ৫৯]
●▪গোপনে নফল ইবাদত করা। 
-------রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "জনসম্মুখের তুলনায় লুকিয়ে নফল নামাজ পড়ার মধ্যে ২৫ গুণ বেশি সওয়াব।"
     ■■ আমল নং- ৬০]
●▪সাধ্যানুযায়ী মানুষকে সময় দেওয়া।
-------রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে কিছুক্ষণ সময় দেওয়া আমার কাছে এক মাস মসজিদে ইতেকাফ করার চেয়েও বেশি পছন্দনীয়।"
[আল মু'জামুল কাবির : ১৩৬৪৬]
     ■■ আমল নং- ৬১]
●▪নেক আমলের নিয়ত করা।
-------রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "যদি কোনো ব্যক্তি রাতে শয়নকালে এই নিয়ত করে যে, সে রাতে উঠে নামাজ পড়বে; কিন্তু প্রচণ্ড ঘুমের কারণে সকাল হয়ে যায়, তাহলে সে তার নিয়ত অনুযায়ী নামাজের সওয়াব পাবে। আর ঘুমটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সদকাস্বরূপ হবে।"
▪[নাসায়ি : ১৭৮৭]
     ■■ আমল নং- ৬২]
●▪রোগী দেখতে যাওয়া এবং তাকে সান্ত্বনা দেওয়া।
-------রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ "যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের রোগের খোঁজ-খবর নেয়, আল্লাহ সত্তর হাজার ফেরেশতাকে তার মাগফিরাতের দু'আয় নিযুক্ত করে দেন। সে দিনের যে সময়ই তা করবে, ফেরেশতারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দু'আ করবে। আর রাতের যে সময়ই করবে, ফেরেশতারা ফজর পর্যন্ত তার জন্য দু'ই করবে।"
▪[মুসনাদে আহমদ : ৯৫৫]
     ■■ ️আমল নং- ৬৩]
●▪বিশুদ্ধ নিয়ত। নিয়ত অর্থ সংকল্প। এটি মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আমল। প্রত্যেক কাজ, তা দ্বীনী কাজ হোক কিংবা দুনিয়াবী, শুরুতেই নিয়তকে শুদ্ধ করা কর্তব্য। সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার সংকল্পই হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। এই নিয়ত মুমিন বান্দার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সকল কাজকেই নেকির কাজে পরিণত করতে পারে। 
-------হাদীসে আছে, হজরত উমর ইবনে খাত্তাব(রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার নিয়ত সে করবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই হবে। আর যে দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত উক্ত বিষয়ের জন্যই হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছিল।"
▪[সহিহ বোখারি, হাদিস- ১; সহিহ মুসলিম হাদিস- ১৯০৭]
     ■■ আমল নং- ৬৪]
●▪টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে না পরা।
-------আবু যর(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "তিন ব্যক্তির সাথে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক কথা বলবেন না। তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তাদেরকে পবিত্র করবেন না। আর তদের জন্য রয়েছে ভীষন আযাব।" রেওয়ায়েতকারী বলেন তিনি এ আয়াতটি তিনবার পড়লেন। আবু যর(রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা কারা? তিনি বললেনঃ "তারা হল,▪যে ব্যাক্তি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে,▪যে ব্যক্তি দান করে খোটা দেয় এবং
▪যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে মাল বিক্রি করে।"
▪[মুসলিম-ঈমান পর্ব: ১৯৫]
     ■■ ️আমল নং- ৬৫]
●▪সীমা কাজ করা।
-------নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেনঃ "কোনো সৎ কাজকেই কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত।" 
▪[সহিহ মুসলিম] 
●▪কারণ এই ধরণের সহজ আমলের মধ্যেও অনেক সময় নিহিত থাকে অনেক প্রাপ্তি এবং পুরষ্কার। হাদীস শরীফে এমন অনেক আমলের বর্ণনা পাওয়া যায়, যা করতে সহজ, কিন্তু এর বিশাল প্রাপ্তি ও পুরষ্কারের কথা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন।
     ■■ আমল নং- ৬৬]
●▪উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া। 
-------আন-নওয়াস বিন সাম’আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকী, আর গোনাহ্ তাকে বলে যা তোমার মনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে এবং তা লোকে জানুক তা তুমি অপছন্দ কর।”
▪[মুসলিম: ২৫৫৩]
     ■■ ️আমল নং- ৬৭]
●▪জুমু‘আর দিন গোসল করা এবং প্রথম দিকে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।
-------আবূ হুরায়রা(রাঃ) বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া মসাল্লাম বলেছেনঃ 
"যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুত্বা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতাগণ) যিকির শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে।"
▪[সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৮৮১]।
     ■■ আমল নং- ৬৮]
●▪মসজিদে যাতায়াত করা।
-------রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "অন্ধকারের মধ্যে যারা মসজিদে বেশী বেশী যাতায়ত করে, কেয়ামতের দিনের জন্য তাহাদেরকে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ শুনাও।"
▪[আল হাদীস]
     ■■ ️আমল নং- ৬৯]
●▪একাগ্রতার সাথে কালিমা পাঠ করা। 
-------হযরত আবু হুরাইরা(রাঃ)হতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন "(যখন) কোন বান্দা অন্তরের ইখলাসের সাথে, লা ইলাহা ইল্লাল্লহ বলে, তখন এই কালেমার জন্য নিশ্চিতরূপে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। এমনকি এই কালেমা সোজা আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অর্থাৎ সাথে সাথেই কবুল হয়ে যায়। তবে শর্ত হইল, যদি এই কালেমা পাঠকারী কবীরা গুনাহ হতে বেঁচে থাকে।"
▪[তিরমিযী]
     ■■ আমল নং- ৭০]
●▪ভালো ভালো কাজ করা। কেননা, ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়।
-------আবু যার জুনদুব বিন জুনাদাহ্ এবং আবু আব্দুর রহমান মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত আছে, তারা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।” 
▪[তিরমিযী: ১৯৮৭, এবং (তিরমিযী) বলেছেন যে, এটা হচ্ছে হাসান হাদীস। কোন কোন সংকলনে এটাকে সহীহ্ (হাসান) বলা হয়েছে।]
●● ইয়া আল্লাহ তা'আলা! আমাদের সবাইকে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানার, বোঝার এবং মেনে চলার তাওফীক দান করুন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা, কবুল ও হিফাযত করুন এবং আমাদের কে সুস্থ্য, সুন্দর, নিরাপদ এবং ভালো রাখুন(আ-মীন)।। ❤️💖❤️ 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন