ইসলামে হারাম খাবার সবসময়ের জন্যই হারাম কি না

 

 

ইসলামে হারাম খাবার সবসময়ের জন্যই হারাম কি না এ নিয়ে সূরা বাকারাহ'র ১৭৩ নাম্বার আয়াতে স্পষ্ট বার্তা আছে। বলা হয়েছে,
"তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে, কিন্তু সে নাফরমানি ও সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার ওপর কোনো পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রধানত চারটি জিনিসকে স্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং এরপর একটি বিশেষ অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন:
নিষিদ্ধ খাদ্যসমূহ:
• মৃত জীব (আল-মাইতাহ): যে প্রাণী স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে অথবা শরিয়তসম্মত উপায়ে জবেহ করা হয়নি। তবে মাছ ও পঙ্গপাল এর ব্যতিক্রম (হাদিসের ভিত্তিতে)।
• প্রবাহিত রক্ত: জবেহ করার সময় যে রক্ত বের হয়ে যায়। তবে কলিজা বা প্লিহার মতো জমাট রক্ত এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
• শুকরের গোশত: এটি সত্তগতভাবেই নাপাক এবং হারাম।
• গায়রুল্লাহর নামে উৎসর্গকৃত প্রাণী: যে পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম না নিয়ে অন্য কোনো দেব-দেবী বা ব্যক্তির নাম নেওয়া হয়।
বিশেষ অবস্থায় শিথিলতা (ইজতিরার):
আয়াতের পরের অংশে বলা হয়েছে, যদি কেউ এমন চরম অবস্থায় পড়ে যায় যেখানে এই নিষিদ্ধ খাবার না খেলে সে মারা যাবে (যেমন: দুর্ভিক্ষ বা মরুভূমিতে আটকা পড়া), তবে তার জন্য এগুলো খাওয়া জায়েজ। কিন্তু শর্ত দুটি:
• বাগী (বিদ্রোহী) হওয়া যাবে না: অর্থাৎ আল্লাহর বিধানের প্রতি অবজ্ঞা রেখে খাওয়া যাবে না।
• আদি (সীমাবদ্ধতা লঙ্ঘনকারী) হওয়া যাবে না: অর্থাৎ যতটুকু খেলে প্রাণ বাঁচবে, তার চেয়ে বেশি খাওয়া যাবে না।
আল্লাহর রহমত:
আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। অর্থাৎ নিরুপায় হয়ে কেউ হারাম খেলে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন না, কারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
পরিশেষে কথা এটাই যে, ইসলাম একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। স্বাভাবিক অবস্থায় যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, চরম জীবন-মরণ সংকটে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সেই বিধিবিধান শিথিল করা হয়েছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন