ইসতিগফার বা (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা চাইলে আল্লাহ যা যা পুরস্কার দিবেন

 ইসতিগফার বা (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা চাইলে আল্লাহ যা যা পুরস্কার দিবেন:


* অপরাধ ক্ষমা করবেন। (সূরা: বাকারা; ৫৮)

* রহমতের বৃষ্টি দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১১)

* ধন-সম্পদ দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* সন্তান-সন্ততি দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* বাগ-বাগিচা দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* নদী-নালা সঠিকভাবে প্রবাহিত করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* ক্ষমা প্রার্থনার পর আমল সঠিক রাখলে সুখ-সম্ভোগ দান করবেন। (সূরা: হুদ; ৩)

* শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধি করবেন। (সূরা: হূদ; ৫২)

* শাস্তি দিবেন না। (সূরা: আনফাল; ৩৩)

* রহমত বা অনুগ্রহ দান করবেন। (সূরা: নমল; ৪৬)

* ক্ষমা প্রার্থনার পরে আর পাপ না করলে জান্নাত দাম করবেন। (সূরা: ইমরান; ১৩৬)

* সব ধরণের বিপদাপদ থেকে মুক্ত করবেন। (আবূ দাউদ; ১৫১৮ - দুর্বল হাদিস)

* সব ধরণের দুশ্চিন্তা হতে রক্ষা করবেন। (আবূ দাউদ; ১৫১৮ - দুর্বল হাদিস)

* অকল্পনীয়ভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। (আবূ দাউদ; ১৫১৮ - দুর্বল হাদিস)

* রাতে ঘুমানোর আগে তিনবার ৪র্থ ইসতিগফারটি পড়লে সমূদ্রের ফেনা সমান গুনাহ মাফ হবে। (তিরমিজি; ৩৩৯৭ - দুর্বল হাদিস)

* সাইয়্যিদুল ইসতিগফার সকালে পড়লে, সন্ধ্যা হবার আগে মারা গেলে জান্নাত পাবে আর সন্ধ্যায় পড়লে ভোর হবার আগে মারা গেলে জান্নাত পাবে। (বুখারী: ৬৩০৬)


মহানবি (সা) কতবার ইসতিগফার পড়তেন?

উ: মহানবি (সা) দিনে لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ (আস্তাগফিরুল্লাহ) দিনে ১০০ বার পড়তেন। (সহিহ মুসলিম: ৬৭৫১- আন্তর্জাতিক ২৭০২, ইবনে মাজাহ: ৩৮১৫)


কোনো কোনো হাদিসে এসেছে, দিনে ৭০ বারের অধিক পড়তেন। (সহিহ বুখারী: ৬৩০৭)


ইসতিগফারগুলো কি কি?


১. 

لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

আস্তাগফিরুল্লাহ

আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।


২. 

لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহ্

আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তওবা করছি।


৩. 

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগ্‌ফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল্ কইয়ুম, ওয়া আতূবু ইলাইহ্

অর্থ: আল্লাহর কাছে আমি ক্ষমা চাইছি, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। আর তাঁর কাছে আমি তওবা করছি।


৪. 

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ‏

উচ্চারণ: আস্তাগ্‌ফিরুল্লাহাল ‘আযীমাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল্ কইয়ুম, ওয়া আতূবু ইলাইহ্

অর্থ: আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক; আর আমি তাঁরই কাছে তওবা করছি।


৫. সাইয়্যিদুল ইসতিগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ قَالَ

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্‌দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্‌রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্‌ফির্‌লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্‌যুনূবা ইল্লা আনতা”।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।’’

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন