টঙ্গী ইজতেমা কি সুন্নাহ নাকি বিদআত জেনে নিন।
🎙️শাইখ ড. মানজুরে ইলাহী হাফিয্বাহুল্লাহ
🔴তাবলীগ অর্থ কি🔴তাবলীগ কিসের করতে হবে?
🔴তাবলীগ কিভাবে করতে হবে সঠীক জেনে নিন🔴
●◆=======●◆●=======●◆
"""তাবলীগ অর্থ""""
"তাবলীগ" অর্থ প্রচার করা, বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
তাবলীগ অর্থ কোন দল না, যদিও বর্তমানে একদল মানুষ মন করে তাবলীগ মানে একটা দল।
এটা তাদের সম্পর্ণ ভুল ধারণা।
"""তাবলীগ কিসের করতে হবে"""
তাবলিগ করতে হবে
“কুরআন” ও “সুন্নাহর” (সহীহ হাদীস)।
আল্লাহ তাআ'লা বলেছেন.......
"ইয়া আয়্যুহার-রাসুলু বাল্লিগ মা উনযিলা ইলাইকা মির-রাব্বিকা"
অর্থঃ হে নবী! আপনি আপনার রব্বের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করুন।সুরা মায়িদাহঃ৬৭।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন...."বাল্লিগু আন্নি ওলাও আয়াহ"। অর্থঃ তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটা আয়াত হলেও প্রচার করে দাও।
রাসুলের উপর নাযিল করা হয়েছে –কুরআন ও সুন্নাহ। সুতরাং একজন মুসলিম শুধু কুরআন ও সুন্নাহর তাবলীগ করতে পারে্।
পীর-মুরিদীর ব্যবসা, নিজের তরীকা বা ফেরকা, বুজুর্গদের ভুয়া স্বপ্নের কিচ্ছা কাহিনী, ঈমান-আকীদা বিধ্বংসী কথা বার্তা ও জাল হাদীস, এইসব সে প্রচার করতে পারেনা। পীর সুফীবাদীদের লেখা ভেজাল স্বপ্নের আমলের কিতাবের তাবলীগ করতে পারেনা।
"""তাবলীগ কিভাবে করতে হবে"""
তাবলীগ করতে হলে নিজে জেনে-শুনেই করতে হবে, অজ্ঞতা নিয়ে দাওয়াত দিতে গেলে তাবলীগ হবে, কিন্তু দ্বীনের তাবলীগ হবেনা।
♦শির্ক-বিদআ’তের তাবলীগ হবে♦
"(হে নবী আপনি) বলে দিনঃ এটাই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে জেনে বুঝে দাওয়াত দেই, আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আর আমি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই।"সুরা ইউসুফঃ ১০৮।
এই নিয়ম না মানার কারণে অনেক লোক আছে যারা তাবলীগ করার দাবী করে কিন্তু সে আসলে নিজের মনগড়া কাহিনী, জাল হাদীস, ভুয়া আমল, বেদাতী চিন্তা-ভাবনা ও কাজকর্ম প্রচার করে নিজেদের পরকালের ক্ষতি করছে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করছে।
এসব স্বপ্নের কিতাবের তাবলীগ থেকে দুরে থাকুন ঈমান,আমল,সম্পদ হেফাজত করুন।
কুরআন এবং সহী হাদিস বুঝে পড়ুন আমল করুন প্রচার করুন।
🔴🔴🔴চিল্লা প্রথা কী জেনে নিন🔴🔴🔴
●◆=======●◆●=======●◆
"চল্লিশ দিনের জন্য নিজস্ব খরচে তাবলীগে বের হওয়াকে ‘চিল্লা’ বলে। ‘ইসলাম আসার আগে ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পায়ে হেটে বহু দূরে চলে যেত। বাধ্য না হলে তারা কোন কিছুতে সওয়ার হতো না। অতঃপর জঙ্গলে বা অন্য কোথাও নিরালায় বসে ক্ষুৎ-পিপাসায় কাতর হয়ে ঈশ্বর বন্দনায় লিপ্ত হতো।
‘'হে তাবলীগীরা তোমাদের এই ঘরবাড়ি ছেড়ে চিল্লায় যাওয়ার প্রথা যদি ব্রাহ্মণদের ধর্ম থেকে না নেওয়াও হয়, তথাপি এটি হ’ল নিকৃষ্টতম বিদ‘আত ও নিকৃষ্টতম ভ্রষ্টতা। যা ভারতীয় মূর্তিপূজারীদের হুবহু অনুকরণ, যা তোমরা পুরোপুরিভাবে ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছ।
🔴"চিল্লায় গিয়ে মানুষকে ছয় উছূল (কালেমা, ছালাত, ইলম ও যিকর, ইকরামুল মুসলিমীন, তাছহীহে নিয়ত, তাবলীগ) শিখানো হয়।
এছাড়া নানা দায়েমী ফরয, দায়েমী সুন্নাত, খানাপিনা-পেশাব-পায়খানা সহ নানাবিধ আদব, ফরয-ওয়াজিব ও সুন্নাতের বিরাট তালিকা মুখস্ত করানো, গাশত-তা‘লীম, সফর-মোশাওয়ারা, অতঃপর ফাযায়েলের বায়ান ইত্যাদির মধ্যে একজন মানুষকে সর্বদা ব্যস্ত রাখা হয়।
অথচ তাদেরকে কুরআন ও হাদীছ শিখানো হয় না। তাওহীদ ও শির্ক, সুন্নাত ও বিদ'আত বুঝানো হয় না। যেগুলি ইসলামের মৌলিক বিষয়।
🔴"দলবদ্ধ চিল্লার প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের মধ্যে তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে দেউবন্দী ভ্রান্ত তা‘লীম ও ছূফী আক্বীদা-বিশ্বাস লোকদের হৃদয়ে প্রোথিত করা। মাওলানা যাকারিয়ার তাবলীগী নেছাবের (ফাজায়েলে আমালের) মাধ্যমে যেটা সর্বত্র প্রচারিত হচ্ছে। সাথে সাথে এই জামা'আতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াসের ভ্রান্ত আক্বীদা তার নিজ যবানীতে নিম্নরূপ ‘স্বপ্নের মধ্যে বিশুদ্ধ জ্ঞান সমূহ প্রক্ষিপ্ত হয়।
যা নবুঅতের চল্লিশ ভাগের একভাগ।’
‘'আজকাল স্বপ্নের মাধ্যমে আমার মধ্যে বিশুদ্ধ ইলম সমূহ প্রক্ষিপ্ত হচ্ছে। এজন্য চেষ্টা করব যাতে আমার ঘুম বেশী হয়। ফলে মাথায় তেল মালিশ করায় তার ঘুম খুব বেশী হ’তে লাগল’।
অতঃপর তিনি (মাওলানা ইলিয়াস) বললেন, তাবলীগের এই তরীকাও আমার উপর স্বপ্নের মধ্যে বিকশিত হয়েছে’।[আব্দুর রহমান উমরী, তাবলীগী জামা‘আত আওর উসকা নিছাব (নয়াদিল্লী : দারুল কিতাব, ১৯৮৮ খৃঃ), পৃঃ ১৩; গৃহীত : মালফূযাতে মাওলানা ইলিয়াস পৃঃ ৫১।
"মুখে ‘রাসূলের (সাঃ) তরীকায় শান্তি’ বলে হর-হামেশা প্রচার চালালেও এটা মূলতঃ ইলিয়াসী তরীকার প্রচার, যা মানুষকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছমুখী না করে তাদের নিজেদের আবিষ্কৃত ভ্রান্ত তরীকামুখী করে।
♦এসব স্বপ্নের কিতাবের তাবলীগ থেকে দুরে থাকুন ঈমান,আমল,সম্পদ হেফাজত করুন।
কুরআন এবং সহী হাদিস বুঝে পড়ুন আমল করুন প্রচার করুন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন