কবরপূজা ও পীরপূজারীদের কেন সুন্নাহর কথা শুনলে গা জ্বলে?
প্রশ্নটি শুনতে কঠোর মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক তিতা সত্য।
যখনই কোনো আহালেহাদিস সালাফী কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর অকাট্য দলিল উপস্থাপন করেন, তখনই একদল মানুষ ‘ফিতনাবাজ’ বা ‘ওহাবী’ বলে গালিগালাজ শুরু করে।
কেন তাদের এত ক্ষোভ? কেন সুন্নাহর কথা শুনলে তাদের গা জ্বলে?
এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ রয়েছে...
🔴 ১. স্বার্থের শিকড়ে আঘাত! কবরপূজা ও পীরপূজাকে কেন্দ্র করে আজ গড়ে উঠেছে বিশাল এক ধর্মীয় ব্যবসা। মাজারের দানবাক্স আর পীরের কদমবুসিতে যাদের রুটি-রুজি আর সামাজিক প্রতিপত্তি টিকে আছে, সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান তাদের সেই ব্যবসার মূলে কুঠারাঘাত করে। যখন মানুষ জানবে, "মৃত ব্যক্তি কারো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না", তখন তাদের মাজারি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। এই ভয় থেকেই তারা সুন্নাহর অনুসারীদের ওপর চড়াও হয়।
🔴 ২. অন্ধ তাকলীদ ও নফসের দাসত্ব আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেছেন, যখনই মুশরিকদের আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকা হতো, তারা বলতো— "আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে যার ওপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করবো" (সূরা বাকারা আয়াত ১৭০)।
আজ যারা পীর আর পূর্বপুরুষের প্রথাকে দ্বীনের চেয়ে বড় মনে করে, তাদের কাছে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সহীহ সুন্নাহ এক বিরাট আপদ মনে হয়। নিজেদের ভুল স্বীকার করার চেয়ে অপরকে গালি দেওয়া তাদের কাছে সহজ মনে হয়।
🔴 ৩. শয়তানের সূক্ষ্ম চাল।
ইবলিস চায় না মানুষ শিরকমুক্ত বিদআত মুক্ত বিশুদ্ধ ইবাদত করুক। কারণ শিরক থাকলে সারা জীবনের আমল শূন্য হয়ে যায়। তাই যখনই কেউ শিরক ও বিদআতের অন্ধকার থেকে মানুষকে তাওহীদের আলোর দিকে ডাকে, শয়তান তখন মাজারি ও পীরপূজারীদের অন্তরে সুন্নাহর অনুসারীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দেয়।
আমাদের বার্তা...
ভাই ও বোনেরা! আমরা কাউকে ছোট করার জন্য বা সমাজ ভাঙার জন্য দাওয়াত দেই না। আমরা চাই— আপনার কপালে যেন কেবল আল্লাহর জন্য সিজদাহ থাকে, আপনার দু'হাত যেন কেবল মহান রবের কাছেই প্রসারিত হয়। জান্নাতের পথ একটিই— আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের দেখানো পথ।
অপবাদ আর গালিগালাজ সাময়িক, কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে শিরকমুক্ত ঈমান নিয়ে দাঁড়ানোই হবে জীবনের আসল সফলতা।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "ইসলাম শুরু হয়েছে নিঃসঙ্গ অবস্থায় (অল্প কয়েকজন নিয়ে), অচিরেই তা আবার আগের মতো নিঃসঙ্গ হয়ে যাবে। সুতরাং সুসংবাদ সেই 'গুরবা' বা নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য।"
(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৫)
এই হাদিসটি কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারী আহালেহাদিস সালাফীদের জন্য অনেক বড় একটি সান্ত্বনা। সমাজ যখন সুন্নাহ ছেড়ে বিদআতে ডুবে থাকে, তখন যারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে, তারাই মূলত সেই সৌভাগ্যবান 'গুরবা'।
পরিশেষে বলবো, সত্যের পথ কোনোদিন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। যুগে যুগে যারা শিরক ও বিদআতের বেড়াজাল ভেঙে নির্ভেজাল তাওহীদের ডাক দিয়েছেন, তাদেরই সমাজচ্যুত হতে হয়েছে কারণ, বাতিল কখনোই সত্যের মুখোমুখি হতে চায় না, বরং তারা আক্রমণ করে সত্যের বাহককে।
পীরপূজা আর কবরপূজার ব্যবসায়িক আধিপত্য কিংবা বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে সুন্নাহকে অস্বীকার করার এই সংস্কৃতি সাময়িক। দিনশেষে জয় হবে কেবল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর। তাই চারপাশের এই গালিগালাজ আর অপপ্রচারে বিচলিত হবেন না।
মনে রাখবেন, মানুষের কাছে আপনি নিঃসঙ্গ হতে পারেন, কিন্তু আরশের অধিপতির কাছে আপনিই সেই সৌভাগ্যবান জান্নাতী ব্যক্তি।
আসুন, আমরা আমাদের ইবাদতকে কেবল আল্লাহর জন্য এবং পদ্ধতিকে কেবল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহর জন্য উৎসর্গ করি। অন্ধকার যতই গাঢ় হোক, তাওহীদের একটি প্রদীপই যথেষ্ট সেই অন্ধকার দূর করার জন্য। আল্লাহ আমাদের আমৃত্যু হকের ওপর অটল রাখুন এবং শিরকমুক্ত ঈমান নিয়ে তাঁর সান্নিধ্যে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
#salafisagor
🖋️ সাগর হারুন রশিদ সালাফী
বিদ'আতের অন্ধকারে সুন্নাহর মশাল।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন