মিলাদ ও কিয়াম নামক কোন আমল রাসুলুল্লাহ (সা:) ও তার সাহাবী (রাঃ) গণ করেন নাই

 ## মিলাদ ও কিয়াম নামক কোন আমল রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও তার সাহাবী (রাঃ) গণ করেন নাই, কোন স্পষ্ট দলিল নাই। ##

×××××××××××××××××××××××××××××××××××××


➤➤ '' যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবর্তন করবে যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। 

কোন ব্যক্তি আমাদের আচার–অনুষ্ঠানের বিপরীত কিছু প্রবর্তন করলে তা বর্জনীয়।''

📚 সুনানে আবু দাউদঃ ৪৬০৬, বুখারীঃ ২৬৯৭, 

মুসলিমঃ ৪৩৮৫ (হাঃ একাডেমি) (ইফাঃ ৪৩৪৪) ইবনে মাজাহঃ ১৪, রিয়াদুস সলেহিনঃ ১৭৩, ১৬৫৬,

মিশকাতঃ ১৪০, সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিবঃ ৪৯,

ঊপদেশঃ ১৬৩।

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


★★ আর কিয়াম করা বা কারো সম্মানার্থে দাড়ানো সম্পুর্ন নিষেধ করেছেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (ﷺ)। 


'' নবী ﷺ জীবিত থাকা অবস্থা কোন সাহাবী রাঃ কিয়াম করতেন না, সেখানে মুমিন মুসলিম গণ কিভাবে মৃত ব্যক্তিকে উদ্দ্যেশ করে কিয়াম করবে❓

(বিঃদ্রঃ বারযাখী বা কবরের জীবনে শুধু নবী রাসুল গণ জীবিত নয়, পাপী বান্দাও জীবিত) 

দলিলঃ 

📚 সুনানে আবু দাউদঃ ৪৭৫৩, ৪৭৫১ 'বুখারীঃ ১৩৩৮, ১৩৭৪, মিশকাতঃ ১৩১, ১৬৩০, হাদিসে কুদসিঃ ৬৬, হাদিস সম্ভারঃ ১৩৮২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)


➤➤ এবারে কিয়াম করা বা কারো সম্মানার্থে দাড়ানো নিষেধ এর দলিল দেখুন।

'' একদিন রসূলুল্লাহ ﷺ লাঠিতে ভর দিয়ে আমাদের নিকট আগমন করলেন। আমরা তাঁর সম্মানার্থে দণ্ডায়মান হলাম।

তখন রসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ 

অনারব লোকেরা একে অপরের সম্মানার্থে যেভাবে দাঁড়ায়, তোমরা সেভাবে দাঁড়াবে না।''

📚মিশকাতঃ ৪৭০০, আবূ দাঊদ ৫২৩০, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৫৮১, 

মুসনাদে আহমাদ ২২১৮১, শু‘আবুল ঈমান ৮৯৩৭,


➤➤   ''সাহাবীদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর চাইতে বেশি প্রিয় ব্যক্তি আর কেউ ছিলেন না। অথচ তারা তাঁকে দেখে দাঁড়াতেন না। কেননা তারা জানতেন যে, তিনি এটা পছন্দ করেন না।''

📚 মিশকাতঃ ৪৬৯৮, তিরমিযী ২৭৫৪,  আল আদাবুল মুফরাদ ৯৪৬, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৩৭৮৪, 

আহমাদ ১২৩৭০, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৫৮৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৫৮। 


➤➤ '' যার মনের অভিলাষ এই যে, মানুষ তার সম্মুখে মূর্তির মতো দণ্ডায়মান থাকুক, সে যেন জাহান্নামকে নিজের বাসস্থান বানিয়ে নেয়।''

📚 মিশকাতঃ ৪৬৯৯, আবূ দাঊদঃ ৫২২৯, তিরমিযীঃ ২৭৫৫, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৬১৭৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৫৮২, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪২০৮, 

শু‘আবুল ঈমান ৮১৬০,  আহমাদ ১৬৯১৮, 

সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭১৭।


★★ প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ বা কোন অলি আউলিয়ারা হাজির নাযির নন।  মৃত ব্যক্তিদের কেউই এখনকার যুগের কোন খবর জানতে পারেন না। 

☞ দলিলঃ 

☞☞☞সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তা’আলা কুরআনে বলেনঃ

"আর জীবিত ও মৃতও সমান নয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন শোনান; যারা ক্ববরে আছে তুমি তাদেরকে শোনাতে পার না।"

📗 সুরা ৩৫ ফাত্বিরঃ ২২


"তুমি মৃতদেরকে শুনাতে পারবে না, আর বধিরকেও আহবান শুনাতে পারবে না (বিশেষতঃ) যখন তারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়।"

📗 সূরা ২৭, নামলঃ ৮০


"তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না, বধিরকেও শুনাতে পারবে না আহবান, যখন তারা পেছন ফিরে চলে যায়।''

📗 সূরা ৩০ রুমঃ ৫২


➤➤ প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেনঃ

“অবশ্যই আমার কতক লোক হাউজে আমার নিকট হাজির হবে, অবশেষে যখন আমি তাদেরকে চিনব আমার পিছন থেকে তাদেরকে ছো মেরে নেয়া হবে, আমি বলবঃ আমার লোক। আমাকে (আল্লাহ্) বলবেনঃ 

❝আপনি জানেন না আপনার পর তারা কি নব আবিষ্কার করেছে❞  তখন নাবী (ﷺ) তাদেরকে বলবেনঃ “দূর হও, দূর হও।” 

  📚 বুখারীঃ ৪৭৪০, ৭০৪৮, ৭০৪৯, ৭০৫০

মুসলিমঃ ৪৭০, ৪৭১, ৪৭২, ৭৮০, ৫৮৬৩, ৫৮৬৮, ৫৮৯০,  আন নাসায়ীঃ ৯০৪, তিরমিজিঃ ৩১৬৭, 

ইবনে মাজাহঃ ৪৩০৬, রিয়াদুস সলেহিনঃ ১৬৯, হাদিস সম্ভারঃ ৪৪, ১৪৯, ১৪৯৫,  সহিহ ফাযায়েলে আমলঃ ৭৮, সহিহ হাদিসে কুদসিঃ ৮২


প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ মৃত্যু বরণ করার পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার কোন খবরই জানেন না বা জানবেন না।

এতএব, উপরোক্ত হাদিস গুলো থেকে প্রমাণিত হলো আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ জিন্দা নয় মৃত ☑️


রাসুলুল্লাহ ﷺ কে আল্লাহ ইহকালে সম্মানিত করেছেন, আত্মার জগতে সম্মানিত করেছেন, কিয়ামত দিবসে সম্মানিত করবেন এবং ইন শা আল্লাহ জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করবেন। 

কিন্তু তুমি যদি বলো রাসুলুল্লাহ ﷺ মরেন নাই, তিনি জিন্দা‼️

তাহলে আল্লাহ যে একমাত্র চিরঞ্জীব এই কথা তুমি অস্বীকার করছো 💥


এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ, প্রথম খলিফা, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর, সাহাবী ও শ্বশুর আবু বক্কর রাঃ বলেছিলেনঃ


❝তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর ইবাদত করতে, মুহাম্মাদ (ﷺ) সত্যই মারা গেছেন। 

আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ চিরঞ্জীব, অমর।❞

📚 সহিহ বুখারীঃ ১২৪১, ১২৪২, ৪৪৫৪, 

ইবনে মাজাহঃ ১৬২৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


☞☞☞ মহান আল্লাহ তাআলা বলেনঃ 


" আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী।  তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান।''

📗 Al-Baqara: Ayah No. 255


"আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব সকলের রক্ষণাবেক্ষণকারী।"

📗 Aal-i-Imraan: Ayah No. 2


"চিরঞ্জীব চিরস্থায়ীর সম্মুখে সকলেই হবে অধোমুখী, আর সে ব্যর্থ হবে যে যুলমের (পাপের) ভার বহন করবে।"

📗 Taa-Haa: Ayah No. 111


"আর তুমি নির্ভর কর সেই চিরঞ্জীবের উপর যিনি মরবেন না। আর তাঁর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা কর। তিনি তাঁর বান্দাহদের গুনাহর খবর রাখার ব্যাপারে যথেষ্ট।'

📗 Al-Furqaan: Ayah No. 58


"চিরঞ্জীব তিনি, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। কাজেই তাঁকে ডাক আনুগত্যকে একমাত্র তাঁরই জন্য বিশুদ্ধ করে। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।"

📗 Al-Ghaafir: Ayah No. 65


রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ 

'' হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার প্রতিই বিশ্বাস স্থাপন করেছি, আপনার উপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই ফিরে যাচ্ছি এবং আপনার সহযোগিতায়ই শত্রুদের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছি। 

হে আল্লাহ! আপনার সম্মানের নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আপনি ছাড়া কোন মুা‘বূদ নেই। আপনি আমাকে বিভ্রান্তির পথ থেকে বাঁচান। 

❝ আপনি চিরঞ্জীব সত্তা, যার মৃত্যু নেই। আর জিন্ জাতি ও মানব জাতি মারা যাবে।❞

  📚 সহিহ মুসলিমঃ ৬৭৯২, বুখারীঃ ৭৩৮৩, রিয়াদুস সলেহিনঃ ৭৬, হাদিস সম্ভারঃ ১৯৭, মিশকাতঃ ২৪৬৩।

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: 

❝নিশ্চয় তোমাদের রব্ব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা।❞

বান্দাহ দু’ হাত তুলে তাঁর নিকট চাইলে তিনি খালি হাত ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন।"

  📚 সুনানে আবু দাউদঃ ১৪৮৮, ইবনে মাজাহঃ ৩৮৬৫, বুলুগুল মারামঃ ১৫৫২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


☞☞☞ পরিশেষে আবারও আল্লাহর বাণীঃ

'' তোমাদের ইলাহ হলেন এক ইলাহ। 

কাজেই যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য-অস্বীকারকারী আর তারা অহংকারী।''


আল্লাহ বললেন, ‘'তোমরা দু’ ইলাহ গ্রহণ করো না, তিনি তো এক ইলাহ; কাজেই আমাকে- কেবল আমাকেই ভয় কর।’'

📗 16 আন নাহলঃ 22 ও 51।


মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে সঠিকভাবে বুঝবার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন