সলাত শেষে জিকির ذِكرَ করার সঠিক নিয়ম

 

মহান আল্লাহ কিভাবে জিকির করতে হবে তা পবিত্র কোরআনে বলে দিয়েছেন; মহান আল্লাহর শিখিয়ে দেয়া নিয়মের জিকির আমাদের দেশীয় আকাবীর, বুজর্গ, পীর ও হুজুরদের পছন্দ হয়নি। তাই তারা নিজেদের মতো করে জিকির বানিয়ে নিয়েছে ও সংঘবদ্ধ ভাবে নেচেনেচে চিল্লাচিল্লি করে সমবেত হবে পাগলের মতো জিকির করে। এসব জায়েজ করতে জিকিরের শব্দ ও জাল হাদিস বানিয়েছে।

সলাত শেষে জিকির ذِكرَ করার সঠিক নিয়মঃ

জিকির কিভাবে করবেনঃ

আল্লাহর জিকির থেকে বিদাত নামক পথভ্রষ্ট গোমরাহী শয়তানকে বিদায় করে দিন।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন-

وَ اذۡکُرۡ رَّبَّکَ فِیۡ نَفۡسِکَ تَضَرُّعًا وَّ خِیۡفَۃً وَّ دُوۡنَ الۡجَہۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوّ وَ الۡاٰصَالِ وَ لَا تَکُنۡ مّنَ الۡغٰافِلِیۡنَ ﴿۲۰۵﴾

অর্থঃ তোমার রাব্বকে মনে মনে বিনয়ের সংগে ভয়- ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে আর উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।                                     [সুরা নং-৭, আল আরাফ, আয়াত-২০৫]

কুরআন ভালভাবে বুঝার স্বার্থে নিম্নে এ আয়াতের কিছু শব্দার্থ দেয়া হলঃ

এবং স্মরণ কর وَاذكُر

তোমার রব্বকে رَبَّكَ

 

কুরআনে বর্নিত জিকিরের রীতি হল ৪'টি যথাঃ

(১) তোমার মনের فِى نَفسِكَ (মনে মনে)

(২) সবিনয়ে تَضَرُّعًا (বিনীত ভাবে)

(৩) ও ভয়ে وَخِيفَةً (ভয়-ভীতি সহকারে)

(৪) এবং উচ্চস্বরে ছাড়া وَدُونَ الجَھرِ (অনুচ্চ স্বরে)

 

কথার মাধ্যমে مِنَ القَولِ

সকাল বেলায় بِالغُدُوّ

ও সন্ধায় وَالاَصَالِ

এবং হয়ো না وَلَا تَكُن

উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত مِنَ الغٰافِلِينَ.

 

নোটঃ

এখানে জিকিরের দু'টি অর্থ হতে পারেঃ

প্রত্যুষে ফজরের সলাত এবং সন্ধাকালীণ আসরের সলাতের কথা বলা হয়েছে। সলাতের আরেক নাম হল জিকির।

অর্থাৎ সলাতের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা। কুরআনুল কারীমকেও জিকির বলা হয়।

 

জিকির কিভাবে করবে?

সে কথা মহান আল্লাহ এ আয়াতের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন।

জিকিরঃ নিম্নের আট প্রকার জিকির হাদিসে পাওয়া যায়।

১) সুবহানাল্লাহ ِسُبحانَ اللّٰه

২) আল-হামদুলিল্লাহ الحمدل اللّٰه

৩) আল্লাহু আকবার ُاللًٰهُ اكبر

৪) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ُلاۤ الٰه الَّا اللّٰه

৫) সুবহানাল্লাহে ওয়াবেহামদিহি سُبحَان اللّٰه وَبِحَمدهٖ

৬) সুবহানাল্লাহিল আজিম ِسُبحَان اللّٰهِ العَظِيم

৭) আল্লাহু আকবার কাবিরা اللّٰهُ اكبر كابيرؑا

৮) আল্লাহু আকবার কাসিরা اللّٰهُ اكبر كاثيرؑا

 

নিম্নে জিকির সংক্রান্ত কুরআনের কিছু আয়াত দেয়া হলঃ

কুরআন থেকে অর্থসহ পড়ে দেখবেন।

সুরা আরাফঃ ৫৫, ২০৫,

সুরা ইমরানঃ ১৯১,

সুরা নিসাঃ ১০৩,

সুরা জুমাঃ ১১০,

 

সলাত শেষে নিম্নোক্ত ৪ নিয়মে জিকির করবেনঃ

(১) মনে মনে

(২) বিনীতভাবে

(৩) ভয়-ভীতি সহকারে

(৪) অনুচ্চ স্বরে।

 

কুরআন, হাদিসে বর্ণিত জিকিরের নিয়ম বহির্ভুত ভাবে যারা জিকির করে তা কোন ভাবেই সঠিক নয়। বিদ’আত এবং তারা আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর দুশমন।

নোটঃ সলাত শেষে জিকির সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ থেকে আমি কিছু হাদিস এখানে আপনাদের খেদমতে যোগ করলাম। আপনারা এগুলো পড়ে দেখবেন।

১) আল্লাহু আকবার বলা এক বার। (বুখারীঃ ৮৪২, মিশকাতঃ ৯৫৯)

২) ইস্তেগফার পড়া তিন বার। (মুসলিমঃ ১২২১, আবু দাউদঃ ১৫২৪, ইবনে মাজাহঃ ৯২৮, তিরমিজিঃ ৩০০)

৩)ক. আলহামদুলিল্লাহ পড়া ৩৩ বার। সুবহানাল্লাহ পড়া ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার পড়া ৩৪ বার। মোট ১০০ তাসবীহ পুর্ণ করা। (মুসলিমঃ ১২৩৬, ১২৩৭, মিশকাতঃ ৯৬৬)

৩) খ. সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হওয়া আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর ১ বার পড়া। মোট ১০০ তাসবীহ পুর্ণ করা। (মুসলিমঃ ১২৩৯, মিশকাতঃ ৯৬৭)

 

তাসবিহ পড়ার/জিকির করার ফজিলতঃ

উপরোক্ত নিয়মে জিকির কারীর গুনাহগুলো সমুদ্রের ফেনা রাশির মত অসংখ্য হলেও মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। (মুসলিমঃ ১২৩৯, ১২৪০)

 

দুয়া পড়ার কিছু হাদিসঃ

১) আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম তাবারাকতা ইয়া যালযালালে ওয়াল ইকরাম।

(মুসলিমঃ হাদিস নং ১২২১, ১২২২, ইবনে মাজাহঃ ৯২৮, তিরমিজিঃ ৩০০)

২) রাব্বি আ ইন্নি আলা যিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা। (মিশকাতঃ ৯৪৯, মুসলিমঃ হাদিস নং ১২২৫)

৩) নামাজ শেষে এবং আরাফার মাঠে পড়া হয় এই দুয়াঃ আশহাদু আন ল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুললে শাইয়িন ক্বাদীর।

৪) নামাজ শেষে কিছু দুয়াঃ

বুখারীঃ ২৮২২,

মুসলিমঃ ১২২৯, ১২৩০,

আবু দাউদঃ ১৫২২,

৫) আয়াতুল কুরসি পড়াঃ (শুয়াবুল ঈমাণঃ ২৩৯৫, সহিহুত তারগীবঃ ১৫৯৫, সহিহুল জামিঃ ৬৪৬৪, তাবারানীঃ ৭৮৩২, সুনানুল কুবরাঃ ৬/৩০)

আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলতঃ মৃত্যুর পরই জান্নাত লাভ করবে।

৬) জাহান্নাম, কবর, মসিহ দাজ্জাল, দুনিয়া এবং পরকালের ফিৎনা থেকে বাঁচার দুয়া।

(মুসলিমঃ ১২২০, ১২১৫, নাসায়ীঃ ৫৫০৫)

নোটঃ আমি আপনাদেরকে ফজিলতপুর্ণ বিভিন্ন দুয়ার তথ্য কুরআনের আয়াত এবং হাদিসগুলো দিলাম। আপনারা মোবাইল apps থেকে অথবা গুগলে সার্চ দিয়েও দুয়াগুলো পড়ে শিখতে পারবেন।

মনে রাখবেনঃ

ঈমাম বুখারী (রাঃ) রাশিয়ার বুখারা সমরকন্দ থেকে সুদুর আরব দেশে ভ্রমন করে হাদিস সংগ্রহ করতেন। অথচ আজ আমরা ঘরে বসেই তথ্যবহুল আন্তর্জাতিকভাবে হাদিসগুলো পাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন