জুম’আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহসমূহ এবং জুম’আর আদব

 

জুম’আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহসমূহ

১] ফজরের সালাতে সুরা আস-সাজদাহ ও সুরা ইনসান পড়া।            [বুখারী তাওহীদ/প্র ৮৯১]

২] মিসওয়াক করা।                                                                 [ইবনু মাজাহ ১০৯৮]

৩] গোসল করা এবং যথাসাধ্য পবিত্রতা অর্জন করা।                         [বুখারী তাওহীদ/প্র ৮৮৩,৮৭৭]

৪] উত্তম পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি লাগানো।                          [আবূ দাউদ ৩৪৩]

৫] জুম'আর সালাতের জন্য আগে আগে রওয়ানা হওয়া।                     [বুখারী তাওহীদ/প্র ৮৮১]

৬] বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা।                                                        [আবূ দাউদ ১০৪৭]

৭] সুরা আল-কাহাফ পাঠ করা।                                 [দারেমী, হা/৩৪০৭, সহীহুল জামে হা/৬৪৭১]

৮] নীরব থেকে খুতবা শোনা ও জুম'আর সালাত আদায় করা।            [বুখারী তাওহীদ/প্র ৯৩৪]

৯] জুম'আর সালাত এর পর হাল্কা নিদ্রায় যাওয়া।                                 [বুখারী তাওহীদ/প্র ৯৪০]

১০] বেশি করে দু’আ করা, বিশেষ করে আসরের শেষের দিকে।                       [আবূ দাউদ ১০৪৮]

 

জুম’আর আদব

1.     জুম’আর দিন গোসল করা। যাদের উপর জুম’আ ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল [সাঃ] ওয়াজিব করেছেন। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ ও চুল কাটা একটি ভাল কাজ।                                                                          [বুখারীঃ ৮৭৭, ৮৭৮, ৮৮০, ৮৯৭, ৮৯৮]

2.     জুম’আর সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা।                                            [বুখারীঃ ৮৮০]

3.     মিস্ওয়াক করা।                                              [ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮, বুখারীঃ ৮৮৭, ইঃফাঃ ৮৪৩]

4.     গায়ে তেল ব্যবহার করা।                                                                 [সহিহ বুখারীঃ ৮৮৩]

5.     উত্তম পোশাক পরিধান করে জুম’আ আদায় করা।                                  [ইবনে মাজাহঃ ১০৯৭]

6.     মুসুল্লীদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা।                              [তিরমিযীঃ ৫০৯, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৬]

7.     মনোযোগ সহ খুৎবা শোনা ও চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব।     [বুখারীঃ ৯৩৪, মুসলিমঃ ৮৫৭, আবু দাউদঃ ১১১৩]

8.     আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া।                                           [সহিহ বুখারীঃ ৮৮১, মুসলিমঃ ৮৫০]

9.     পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন।                                                                     [আবু দাউদঃ ৩৪৫]

10.   জুম’আর দিন ফজরের নামাজে ১ম রাক’আতে সূরা সাজদা [সূরা নং-৩২] আর ২য় রাকা’আতে সূরা ইনসান [দাহর] [সূরা নং-৭৬] পড়া।                                                 [বুখারীঃ ৮৯১, মুসলিমঃ ৮৭৯]

11.   সূরা জুম’আ ও সূরা মুনাফিকুন দিয়ে জুম’আর সালাত আদায় করা। অথবা সূরা আলা ও সূরা গাশিয়া দিয়ে জুম’আ আদায় করা।                                                                           [মুসলিমঃ ৮৭৭, ৮৭৮]

12.   জুম’আর দিন ও জুম’আর রাতে বেশী বেশী দুরুদ পাঠ।                                 [আবু দাউদঃ ১০৪৭]

13.   এ দিন বেশী বেশী দোয়া করা।                                                       [সহিহ বুখারীঃ ৯৩৫]

14.   মুসুল্লীদের ফাঁক করে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া।               [সহিহ বুখারীঃ ৯১০, ৮৮৩]

15.   মুসুল্লীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা।                [আবু দাউদঃ ৩৪৩, ৩৪৭]

16.   কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা।                 [সহিহ বুখারীঃ ৯১১, মুসলিমঃ২১৭৭, ২১৭৮]

17.   খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখনও দু’রাকা’আত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ সালাত আদায় করা ছাড়া না বসা।                                                                                 [সহিহ বুখারীঃ ৯৩০]

18.   জুম’আর দিন জুম’আর পূর্বে মসজিদে জিকর বা কোন শিক্ষামুলক হালকা না করা। অর্থাৎ ভাগ ভাগ হয়ে, গোল গোল হয়ে না বসা, যদিও এটা কোন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হোক না কেন। [আবু দাউদঃ ১০৮৯]

19.   কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা।                          [নাসায়ীঃ ৭১৪, সহিহ বুখারীঃ ৯৩৪]

20.   মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধুমপান না করা।          [সহিহ বুখারীঃ ৮৫৩]

21.   ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা বদল করে বসা।                                 [আবু দাউদঃ ১১১৯]

22.   ইমামের খুৎবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা।              [আবু দাউদঃ ১১১০, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৪]

23.   খুৎবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হলেও ইমাম থেকে দূরে উপবেশনকারীরা বিলম্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।                                            [আবু দাউদঃ ১১০৮]

24.   জুম’আর দিন সূরা কাহফ পড়া। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন।                                         [হাকেমঃ ২/৩৬৮, বায়হাকীঃ ৩/২৪৯]

25.   জুম’আর আযান দেওয়া। অর্থাৎ ইমাম মিম্বরে বসার পর যে আযান দেওয়া হয় তা।       

[সহিহ বুখারীঃ ৯১২]

26.   জুম’আর ফরজ সালাত আদায়ের পর মসজিদে ৪ রাকা’আত সুন্নাত সালাত আদায় করা।                                                            [সহিহ বুখারীঃ ১৮২, মুসলিমঃ ৮৮১, আবু দাউদঃ ১১৩০]

27.   উযর ছাড়া একই গ্রাম ও মহল্লায় একাধিক জুম’আ চালু না করা। আর উযর হল এলাকাটি খুব বড় হওয়া, বা প্রচুর জনবসতি থাকা, বা মসজিদ দূরে হওয়া, বা মসজিদে জায়গা না পাওয়া, বা কোন ফিতনা ফাসাদের ভয় থাকা।           [মুগনি লিবনি কুদামাঃ ৩/২১২, ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহঃ ২৪/২০৮]

28.   ওজু ভেঙ্গে গেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। অতঃপর আবার ওজু করে মসজিদে প্রবেশ করা।                                                                                                                                        [আবু দাউদঃ ১১১৪]

29.   একান্ত উযর না থাকলে দুই পিলারে মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় সালাত আদায় না করা। [হাকেমঃ ১/১২৮]

30.   সালাতের জন্য কোন একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই সালাত আদায় করা।                                                                           [আবু দাউদঃ৮৬২]

অর্থাৎ আগে থেকেই নামাজের বিছানা বিছিয়ে জায়গা দখল করে না রাখা বরং যে আগে আসবে সেই আগে বসবে।

31.   কোন নামাজীর সামনে দিয়ে না হাঁটা অর্থাৎ মুসুল্লী ও সুতরার মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে না হাঁটা।

[বুখারীঃ ৫১০]

32.   এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোন কিছু না পড়া, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে।                                                                                          [আবু দাউদঃ ১৩৩২]

33.   পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযীলত অন্তরে জাগরূক রাখা।

34.   হাঁটার আদব মেনে মসজিদে গমন করা।

35.   খুৎবার সময় খতীবের কোন কথার সাড়া দেওয়া বা তার প্রশ্নের জবাব দানে শরীক হওয়া জায়েজ।                                                                                  [সহিহ বুখারীঃ ১০২৯, মুসলিমঃ ৮৯৭]

36.   যেখানে জুম’আর ফরজ আদায় করেছে, উত্তম হল ঐ একই স্থানে সুন্নাত না পড়া। অথবা কোন কথা না বলে এখান থেকে গিয়ে পরবর্তী সুন্নাত সালাত আদায় করা।       [মুসলিমঃ ৭১০, সহিহ বুখারীঃ ৮৪৮]

37.   ইমাম সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা- ইস্তেগফার ও কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন