জানাজা বহনের সময় উচ্চস্বরে জিকির করার বিধান

 ◉ প্রশ্ন: আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে জানাজা বহনকারীরা লাশের খাটিয়া বহন করার সময় উচ্চ স্বরে কালেমা পাঠ করে,সেই সাথে কাঁধ বার বার বদলায় অর্থাৎ সামনের বহনকারীরা পেছনে যায় আর পেছনের ব্যক্তিরা সামনে এসে খাটিয়া বহন করে। এটি কি বিদ‌আতের পর্যায়ে পড়ে? দয়া করে ইসলামের আলোকে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।


◈ জানাজা বহনের সময় উচ্চস্বরে জিকির করার বিধান


- সৌদি আরবের সাবেক মুফতি আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)

প্রশ্ন: সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন যে, আমাদের এলাকায় জানাজা নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সময় মানুষ উচ্চস্বরে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" পাঠ করে। এটি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, নাকি এটি একটি নিষিদ্ধ বিদআত?


উত্তর:

এটি একটি বিদআত-যার কোনো ভিত্তি নেই। সালাফে সালেহীন (পূর্বসূরিগণ) যখন জানাজার সাথে যেতেন, তখন তারা নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু রাখতেন। তারা তখন মৃত্যু এবং মৃত্যু-পরবর্তী অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও নসিহত গ্রহণ করতেন। জানাজার সাথে এভাবে উচ্চস্বরে জিকির করার কোনো ভিত্তি নেই। বরং এটি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

তবে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা শেষ হলে তার জন্য দোয়া করা শরিয়তসম্মত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তির দাফন শেষ করতেন, তখন কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন:

استغفروا لأخيكم، وسلوا له التثبيت، فإنه الآن يُسأل

"তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার দৃঢ়তার (সওয়াল-জওয়াবের সময় অটল থাকার) জন্য দোয়া করো। কারণ এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।"

তাই সুন্নাহ হলো দাফনের পর দোয়া করা—"হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দৃঢ় রাখুন, তাকে জান্নাত দান করুন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।" দাফনের পর এভাবে ক্ষমা ও দৃঢ়তার দোয়া করা অত্যন্ত উত্তম কাজ। কিন্তু জানাজা নিয়ে যাওয়ার সময় বা দাফনের সময় বিশেষ পদ্ধতিতে উচ্চস্বরে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" বলা ভিত্তিহীন।

অনুবাদক:

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

#abdullahilhadi


◈ এই প্রসঙ্গে ইসলাম ওয়েব-এ লেখা হয়েছে: 


জিকির করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত-এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু জানাজার পেছনে দলবদ্ধভাবে জোরে জোরে জিকির করা একটি নতুন প্রথা (বিদআত)। এই কাজ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবি বা শ্রেষ্ঠ যুগের বুজুর্গদের কেউ করেননি।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সব ধরনের নতুন উদ্ভাবিত দ্বীনি প্রথা বা বিদআত থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ

"যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু তৈরি করল যা তার অংশ নয়, তবে তা বাতিল।" 

অন্য এক বর্ণনায় আছে:

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْ عليهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

"যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার স্বপক্ষে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তবে তা বর্জনীয়।" [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]

(সংক্ষেপিত) 

অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

#abdullahilhadi 


◈ মৃত ব্যক্তির লাশের খাট বহনের সময় ১০ কদম করে ৪০ কদম পর্যন্ত কাঁধ পরিবর্তন করার কোনো বিধান:

প্রশ্ন: আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, মৃত ব্যক্তির লাশের খাটকে বাসা থেকে বের করার সময় ৪০ কদম, ১০ কদম পর পর কাঁধটা পরিবর্তন করা হয়। ইসলামে এ ধরনের কোনো বিধান আছে কি?

উত্তর: 

না। এটি একেবারেই বিধানসম্মত নয়। বরং এ কাজটি বিদআত। ৪০ কদম গোনারও কোনো প্রয়োজন নেই এবং ১০ কদম পর পর কাঁধ পরিবর্তন করারও কোনো প্রয়োজন নেই।


রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিয়া হলো, বাসা থেকে যখন লাশ বের করা হবে তখন যত দ্রুত সম্ভব লাশ বের করে নিয়ে যাওয়া। এটাই হচ্ছে সুন্নাহ।

অবশ্য প্রয়োজন হলে কাঁধ পরিবর্তন করা যাবে। তা না হলে বহনকারীর লাশও ফেলে দেবে। আর নিজেও কষ্ট পাবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কদমও নেই, কাঁধ পরিবর্তনের কোনো দরকারও নেই। এটাকে শরিয়তের বিধান হিসেবে মনে করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনে যদি কেউ পরিবর্তন করেন তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

প্রশ্নকারী: এহসান করিম, চট্টগ্রাম

উত্তর প্রদানে: ডক্টর সাইফুল্লাহ মাদানি

সোর্স: NTV BD

সংকলনে: 

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

#abdullahilhadi

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন