শির্ক (সবচেয়ে বড় কবীরা গোনাহ)
[১] জ্ঞানগত শির্ক
[২] ব্যবহারগত শির্ক
[৩] ইবাদতে শির্ক
[৪] অভ্যাসগত শির্ক
[৫] ভালবাসায় শির্ক।
এগুলো হল বড় শির্ক বা ‘শির্কে আকবার’। এতদ্ব্যতীত ‘শির্কে আছগার’ বা ছোট শির্ক হল ‘রিয়া’ বা লোক দেখানো দ্বীনদারী। যা বড় শির্কের এক দর্জা নীচে এবং সবচেয়ে বড় কবীরা গোনাহ।
[১] জ্ঞানগত শির্ক: এর অর্থ হল আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী মনে করা। বিপদ-আপদে অন্য কোন অদৃশ্য সত্তাকে আহবান করা, অন্যের নামে যিকর করা বা ধ্যান করা ইত্যাদি।
[২] ব্যবহারগত শির্ক: এর অর্থ সৃষ্টির পরিকল্পনা ও সৃষ্টি জগতের পরিচালনায় অন্য কাউকে শরীক গণ্য করা। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকেই মুসলমানের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারনীতি, শিক্ষানীতি, ধর্মীয় নীতি, সমাজনীতি সবকিছু পরিচালিত হবে। এটাই হল তাওহীদের মূল কথা এবং এর বিপরীতটাই হল শির্ক।
[৩] ইবাদতে শির্ক: এর অর্থ হল ইবাদত বা উপাসনার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করা। যেমন আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে সিজদা করা, অন্যের নামে যবহ করা, মানত করা, অন্যের নিকটে প্রার্থনা করা, অন্যকে ভয় করা, আকাঙ্ক্ষা করা, যে আনুগত্য ও সম্মান আল্লাহকে দিতে হয় সেই আনুগত্য ও সম্মান অন্যের প্রতি প্রদর্শন করা, কবরপূজা করা ইত্যাদি। পৃথিবীর সবচাইতে প্রাচীনতম শির্ক হল মূর্তিপূজা।
[৪] অভ্যাসগত শির্ক: এর অর্থ হল মানুষ অভ্যাস বশতঃ অনেক সময় শির্ক করে থাকে। শির্কী কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে, হালালকে হারাম করে, হারামকে হালাল করে ইত্যাদি। যেমন বিশ্বব্যাপী প্রচলিত রেওয়াজের দোহাই দিয়ে দেশে সূদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রাখা, কারো সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা, নিজেদের বানানো শহীদ মিনার, শিখা অনির্বাণ, শিখা চিরন্তন, স্মৃতিসৌধ, ভাষ্কর্য, টাঙ্গানো ছবি বা চিত্রে ইত্যাদিতে ফুলের মালা বা পুষ্পাঞ্জলী নিবেদন করা।
[৫] ভালবাসায় শির্ক: এর অর্থ বান্দার ভালবাসাকে আল্লাহর ভালবাসার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত বিধানের ঊর্ধ্বে কোন মুজতাহিদ ইমাম, মুফতী, পীর-আউলিয়া বা শাসনকর্তার আদেশ-নিষেধ ও বিধান সমূহকে অধিক ভালোবাসা ও তদনুযায়ী আমল করা।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন