সালাত সংক্রান্ত
সালাতের ফজিলতঃ
ü আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের ফযিলত সম্পর্কে মানুষ যদি জানতো, তাহলে অবশ্যয়ই তারা এটি করার মতো সুযোগ পেতে লটারি দিত।
[বুখারী-৬০৫, মুসলিম-৪৩৭, নাসাঈ-৬৭১]
ü রাসূল [সাঃ] বলেছেন – সালাতে উপস্থিত লোকদের ২৫ নেকি লেখা হয় এবং তার দু’সালাতের মধ্যবর্তী কালের গুণাহ ক্ষমা করা হয়।
[আবু দাউদ-৫১৫, ইবনে মাজাহ-৭২৪, নাসাঈ-৬৪৫, আহমাদ-৭৫৫৬, ৯০৭৩, ৯২৫৭, মিশকাত-৬৬৭]
ü রাসূল [সাঃ] বলেছেন –যে ব্যক্তি ইবাদত জ্ঞানে ছওয়াব লাভের নিয়তে তারাবীহ সালাত আদায় করে তার পূর্ববর্তী সমস্ত [সগীরা] গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [নাসাঈ-১৬০২]
ü উম্মে হাবীবা [রাঃ] থেকে বর্ণিতঃ তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃ]-কে বলতে শুনেছেন যে, “কোন মুসলিম যখন আল্লাহ্র জন্য প্রতিদিন ফরয সালাতগুলো ছাড়াও আরো ১২ রাকআ’ত সুন্নত সালাত পড়ে, আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতের একটি ঘর তৈরী করেন।” [মুসলিম ১৬৯৬]
*** সুন্নত সালাত হলো ১২ রাকআ’ত।
|
পূর্বে |
|
পরে |
|
২ রাকআ’ত |
ফজরের |
|
|
৪ রাকআ’ত |
যোহরের |
২ রাকআ’ত |
|
|
মাগরিবের |
২ রাকআ’ত |
|
|
এশার |
২ রাকআ’ত |
ü আবূ যার [রাঃ] থেকে বর্ণিতঃ নবী করীম [সাঃ] বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় প্রভাব করে যে, তাকে তার প্রত্যেক জোড়াগুলোর পরিবর্তে সাদকাহ দেয়া লাগে। কাজেই প্রত্যেক বার ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা সাদকাহ হিসেবে বিবেচিত হয়, প্রত্যেক বার ‘আল্লাহু আকবর’ বলা সাদকা হিসেবে গণ্য হয় এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সাদকাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এসবের মুকাবিলায় চাশতের ২ রাকআ’ত সালাতই হবে যথেষ্ট। [মুসলিম ৭২০]
*** এই সালাতের উত্তম সময় হলো, সূর্য পূর্ণ উদিত হওয়া থেকে ঠিক সূর্য মাথার উপরে আসা পর্যন্ত। এই সালাতের সংখ্যা হলো কমপক্ষে ২ রাকআ’ত আর বেশীর কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই।
রাসূল [সাঃ] এর সলাত
ü ফজরের এবং মাগরীবের সুন্নাত সালাতে রাসূল [সাঃ] ১ম রাকাতে ফাতেহার পর কাফিরূন আর ২য় রাকাতে ফাতেহার পর ইখলাস পড়তেন।
ü রাসূল [সাঃ] বলেছেন – যে ব্যক্তি সারাদিনের ফরজ বাদে ১২ রাকাত সুন্নাতের হেফাজত [আদায়] করবে, আল্লাহ তাকে এর বিনিময়ে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন। [ফজরের আগে ২, যহরের আগে ৪ এবং পরে ২, মাগরীবের পরে ২ এবং এশার পরে ২ রাকাত]
ü রাসূল [সাঃ] ইশার সালাতের পর থেকে ফজরের সালাত পর্যন্ত সময়ে ১১ রাকাত সালাত আদায় করতেন। বিতর ১ রাকাত পড়তেন [দু রাকাতের সাথে ১ রাকাত যুক্ত করে বিতর সালাতকে ৩ রাকাত আদায় করতেন এবং ৩ রাকাত শেষে সালাত ফেরাতেন। এবং এত দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, সে সময়ে একজন কুরআনের ৫০টি আয়াত পড়তে পারবে। [নাসাঈ-৬৮৬]
ü ইবন উমর [রা.] বলেন – রাসূল [সাঃ] কে জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাতের সালাত ২ রাকাত, ২ রাকাত করে আদায় করবে এবং বিতরের সালাত শেষ রাতে [পূর্বের আদায়কৃত সালাত সমূহের সাথে মিলিত] ১টি রাকাত। [নাসাঈ-১৬৯১-১৬৯৬]
ü রাসূল [সাঃ] ৩ রাকাত বিতরের ১ম রাকাতে সূরা আলা, ২য় রাকাতে সূরা কাফেরূন এবং ৩য় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। শুধুমাত্র শেষ রাকাতেই সালাম ফেরাতেন এবং তারপর ৩ বার সুবহানা আল মালিকুল কুদ্দুস পড়তেন। [নাসাঈ-১৬৯৯, ১৭০১]
ü রাসূল [সাঃ] কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদের জন্য ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক ও অযু করে ৮ রাকাত সালাত আদায় করতেন। তাতে সালাম ফেরানোর জন্য শধু ৮ম রাকাতেই বসতেন। বসে আল্লাহ তা’আলার যিকর ও দু’আ করতেন। অতঃপর সালাত ফেরাতেন। এরপর ২ রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং ২ রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে বসে থাকতেন। আবার ১ রাকাত সালাত আদায় করতেন। এভাবে তিনি মোট ১১ রাকাত সালাত আদায় করতেন। বয়স বেড়ে যাযার পর যখন তার শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়ে গেল তখন তিনি ৭ রাকাত বিতর সালাত আদায় করতেন। আর সালামের পর বসে থেকে ২ রাকাত সালাত আদায় করতেন। এভাবে বৃদ্ধাবস্থায় রাসূল [সাঃ] ৯ রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর যদি নিদ্রা অথবা কোন অসুখ বা ব্যথা-বেদনা তাহাজ্জুদ থেকে বিরত রাখত তাহলে তিনি দিনে ১২ রাকাত সালাত আদায় করে নিতেন। [নাসাঈ-১৬০১]
ü আয়েশা [রা.] বলেন রাসূল [সাঃ] যখন রাতে ঘুম থেকে জাগতেন তখন নিচের দু’আটি পড়ে তাহাজ্জুদ শুরু করতেন – আল্লাহুম্মা রাব্বা জিবরীলা ওয়া মিকাঈলা ওয়া ইসরাফিলা ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, আলিমাল গায়বী ওয়াশ শাহাদাতি আন্তা তাহকুমু বায়না ইবাদিকা ফি’মা কানু ফিহি ইয়াখতালিফুনা, আল্লাহুম্মাহ দীনি লিমাখ তুলিফা ফিহি মিনাল হাক্ক, ইন্নাকা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুসতাকিম।
ü আলী [রা.] বলেন – বিতরের সালাত ফরয সালাতের ন্যায় অত্যাবশ্যকীয় নয়। বরং তা সুন্নাত, যা রাসূল [সাঃ] প্রচলন করেছেন। [নাসাঈ-১৬৭৬]
ü আবু আইয়্যুব [রা.] হতে বর্ণিত – রাসূল [সাঃ] বলেছেন, বিতরের সালাত ওয়াজিব। অতএব, যার ইচ্ছা হয় সে ৭ রাকাত দ্বারা বেজোড় করে দেবে, আর যে ইচ্ছা করে সে ৫ রাকাত দ্বারা বেজোড় করে দেবে, আর যে ইচ্ছা করে সে ৩ রাকাত দ্বারা বেজোড় করে দেবে, আর যে ইচ্ছা করে সে ১ রাকাত দ্বারা বেজোড় করে দেবে। [নাসাঈ-১৭১০, ১৭১২, ১৭১৩]
ü ফজরের সালাতে রাসূল [সাঃ] তার মৃত্যু পর্যন্ত সবসময় দু’আ কুনুত পড়েছেন।
[কিতাবুল আরবায়িন – হাকিম [রহ.], হাদিসটি সহীহ]
§ রাসূল [সাঃ] বলেছেন – তুমি যখন সালাতেদাঁড়ানোর ইচ্ছা করবে তখন ১০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০ বার আলহামদুলিল্লাহ, ১০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ১০ বার আল্লাহু আকবর এবং ১০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়।
§ হাত তুলে তাকবীর বলার পরঃ
১। আল্লাহু আকবার কাবীরা ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছীরা ওয়া সুবহানাল্লাহী ওয়া বুকরাতাউ ওয়াছিলা।
অর্থঃ আল্লাহ মহান, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।
২। সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা, তাবারা কাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গায়রুক।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উঁচুতে, আর আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।
৩। আল্লাহুম্মা বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতাইয়্যা কামা বা’আদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব, আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিন খাতাইয়্যা, কামা ইউনাক্কাস সাওবুল আব-ইয়াদু মিনাদ্দানাছ, আল্লাহুম্মাগসিলনি মিন খাতায়ায়া বিস-ছালজি ওয়াল বারাদ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার পাপগুলোর মধ্যে এমন দূরত্ব করে দিন, যেমন দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার পাপগুলোকে বরফ, পানি ও শিলা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন।" [বুখারী: ৭৪৪, মুসলিম: ৫৯৮]
৪। আউজুবিল্লাহী মিনাশ শায়তানির রাজীম, মিন নাফখিহি [অহংকার], ওয়া নাফসিহি [কবিতা] ওয়া হামজিহি [উম্মাদনা]।
৫। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
এরপর সুরা ফাতেহা এবং অন্য একটি সূরা বা সূরার আয়াত পড়তে হবে।
§ রুকুর দোয়াঃ
১। সুবহানা রাব্বি আল-আজীম।
[মুসলিম ৪৭৯, নাসাঈ ১০৪৫, ১১২০, আবূ দাউদ ৮৭৬, ইবনু মাজাহ ৩৮৯৯, আহমাদ ১৯০৩, দারেমী ১৩২৫, ১৩২৬, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৫]
২। সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবি হামদিকা আল্লহুম্মাগফিরলি।
অর্থঃ হে আমার পালনকর্তা আল্লাহ! আপনার প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।
ü আয়েশা [রাঃ] বলেন, রাসুল [সাঃ] রুকু ও সিজদায় এই দু’আটি খুব বেশি পড়তেন।
[বুখারী ৭৯৪, ৮১৭, ৪২৯৪, ৪৯৬৭, ৪৯৬৮, মুসলিম ৪৮৪, নাসাঈ ১০৪৭, ১১২২, ১১২৩, আবূ দাউদ ৮৭৭, ইবনু মাজাহ ৮৮৯৯, আহমাদ ২৩৬৪৩, ২৩৭০৩, ২৪১৬৪, ২৫০৩৯, ২৫৩৯৭, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৩]
৩। সুবহানা-যিল জাবারুতি ওয়াল মালাকুতি ওয়াল কিবরিয়া’ই ওয়াল আজমাতি
অর্থঃ ক্ষমতা, রাজ্য, বড়ত্ব, মহত্ব ও বিরাটত্বের মালিকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। [মিশকাতুল মাসাবিহ-৮৮২]
৪। সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রুহ।
অর্থঃ মহামহিম পবিত্র সত্ত্বা আল্লাহ ফেরেশতা ও জিবরিলের পালনকর্তা।
ü রাসুল [সাঃ] রুকু-সিজদায় এই দু’আটি পড়েছেন। [আয়েশা [রাঃ]]
[মুসলিম ৪৮৭, নাসাঈ ১০৪৮, ১১৩৪, আবূ দাউদ ৮৭২, আহমাদ ২৩৫৪৩, ২৪১০৯, ২৪৩২২, ২৪৬২২, ২৪৬৩৮, ২৪৯০৬, ২৫০৭৮, ২৫১১০, ২৫৫৩৯, ২৫৭৬১, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৪]
§ রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে
সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ
বলার পর
[আল্লাহুম্মা] রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান ত্বায়্যিবান মুবারাকান ফিহ্
ফজিলতঃ
ü ৩০ জন ফেরেশতা এর ছওয়াব লেখার প্রতিযোগিতা করেন।
§ সিজদার দু’আঃ
১। সুবহানা রাব্বি আল আলা।
২। সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবি হামদিকা আল্লহুম্মাগফিরলি।
অর্থঃ হে আমার পালনকর্তা আল্লাহ! আপনার প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।
ü রাসুল [সাঃ] রুকু ও সিজদায় এই দু’আটি খুব বেশি পড়তেন। [আয়েশা [রাঃ]]
[বুখারী ৭৯৪, ৮১৭, ৪২৯৪, ৪৯৬৭, ৪৯৬৮, মুসলিম ৪৮৪, নাসাঈ ১০৪৭, ১১২২, ১১২৩, আবূ দাউদ ৮৭৭, ইবনু মাজাহ ৮৮৯৯, আহমাদ ২৩৬৪৩, ২৩৭০৩, ২৪১৬৪, ২৫০৩৯, ২৫৩৯৭, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৩]
৩। সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রুহ।
অর্থঃ মহামহিম পবিত্র সত্ত্বা আল্লাহ ফেরেশতা ও জিবরিলের পালনকর্তা।
ü রাসুল [সাঃ] রুকু-সিজদায় এই দু’আটি পড়েছেন। [আয়েশা [রাঃ]]
[মুসলিম ৪৮৭, নাসাঈ ১০৪৮, ১১৩৪, আবূ দাউদ ৮৭২, আহমাদ ২৩৫৪৩, ২৪১০৯, ২৪৩২২, ২৪৬২২, ২৪৬৩৮, ২৪৯০৬, ২৫০৭৮, ২৫১১০, ২৫৫৩৯, ২৫৭৬১, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৪]
৪। اَللهم اغْفِرْ لي ذَنْبِي كُلَّهُ: دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ
আল্লাহুম্মাগফিরলি যামবি কুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, আউয়্যালাহু ওয়া আখিরাহু, ওয়া আলা নিয়াতাহু ওয়া সিররাহু।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ মাফ করে দিন। ছোট-বড়, শুরু-শেষ, প্রকাশ্য-গুপ্ত সকল গুণাহ মাফ করে দিন। [মুসলিম ৪৮৩, আবূ দাউদ ৮৭৮, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৭]
৫। সুবহানাকা ওয়াবি হামদিকা লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত্।
এবং
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবি রিদা-কা মিন সাখাতিক, ওয়াবি মুআফা-তিকা মিন উকূবাতিক, অয়া আউজুবিকা মিনকা লা উহসী সানা-আন আলাইকা আন্তা কামা আসনাইতা আলা নাফসিক্।
অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার সন্তুষ্টির অসীলায় তোমার ক্রোধ থেকে, তোমার ক্ষমাশীলতার অসীলায় তোমার শাস্তি থেকে এবং তোমার সত্তার অসীলায় তোমার আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার উপর তোমার প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারি না, যেমন তুমি নিজের প্রশংসা নিজে করেছ।
ü রাসুল [সাঃ] সিজদায় এই দু’আটি পড়েছেন। [আয়েশা [রাঃ]]
[রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৮, মুসলিম ৪৮৬, তিরমিজি ৩৪৯৩, নাসাঈ ১১০০, ১১৩০, ৫৫৩৪, আবূ দাউদ ৮৭৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৪১, আহমাদ ২৩৭৯১, মুওয়াত্তা মালিক ৪৯৭]
§ দুই সিজদার মাঝে:
আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনী, ওয়াজবুরনি, ওয়া আফিনি, ওয়া রযুকনি, ওয়ারফানী।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার সমস্ত ক্ষয়-ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। [তিরমিজি: ২৮৪]
§ সালাতের শেষ বৈঠকেঃ
১। তাশাহুদ
২। দরুদে ইব্রাহীম
৩। দু’আ মাসূরা: [নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ এবং দরূদ এর পর এই দু’আ পড়ে সালাম ফেরাতে হয়]
আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি জুলমান কাছিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিক ওয়ারহামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।
অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
৪। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল কাবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ’ইয়া ওয়াল মামাত ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই – জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জাগতিক জীবনের ও মৃত্যুর ফিতনা [পরীক্ষা ও বিপদ] থেকে এবং দাজ্জালের অমঙ্গল থেকে।
[বুখারী ১৩৭৭, মুসলিম ৫৮৮, তিরমিজি ৩৬০৪]
৫। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউযুবিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিদ্দুন্য়্যা ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল কাবরি।
অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট কার্পণ্য ও ভীরুতা থেকে পানাহ চাচ্ছি, স্থবিরতার বয়সে কবলিত হওয়া থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আর দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের ফিতনা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। [বুখারী ৬৩৬৫, ৬৩৭০, ৬৩৭৪, ৬৩৯০, তিরমিজি ৩৫৬৭, নাসাঈ ৫৪৪৫]
৬। আল্লা-হুম্মা আইন্নী আলা যিক্রিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবা-দাতিক।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিক্র [স্মরণ], শুক্র [কৃতজ্ঞতা] এবং সুন্দর ইবাদত করতে সাহায্য দান কর। [রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩০, আবূ দাউদ ১৫২২, ৫৪৮২, ৫৪৮৩, আহমাদ ২১৬২১]
৭। اَللهم اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ
আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা কদ্দামতু ওয়ামা আখখারতু ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আ’লানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুআখ্খিরু লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত্।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, যা অতিরিক্ত করেছি এবং যা তুমি আমার চাইতে অধিক জান। তুমি আদি, তুমিই অন্ত। তুমি ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই।
[মুসলিম ৭৭১, তিরমিজি ৩৪২২, ৩৪২৩, আবূ দাউদ ৭৬০, ১৫০৯, নাসাঈ ১৬১৯, ইবনু মাজাহ ১৩৫৫, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩২]
ü আলী [রাঃ] থেকে বর্ণিতঃ রাসূল [সাঃ] যখন নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হতেন, তখন তাশাহহুদ ও সালাম ফিরার মধ্যখানে শেষ বেলায় অর্থাৎ, সালাম ফিরবার আগে] এই দু‘আ পড়তেন
§ মোনাজাতে: রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা ওয়াফিল আখিরাতি হাসনা ওয়া কিনা আজাবান নার। [সুরা বাকারা-২০১] রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তার-হামনা লানা কুনান্না মিনাল খসেরীন। [সুরা আরাফ-২৩] রব্বানা তাকাববাল মিন্না ইন্নাকা আন্তাস সামিউল আলিম। ওয়াতুব আলায়না ইন্নাকা আনতাত্ তাওয়া-বুর রহিম। [সূরা বাকারাহ: ১২৭-১২৮] রাব্বী, ইন্নী জালামতু নাফছী ফাগফিরলী। [সূরা কাসাসঃ ২৮:১৬]
অর্থঃ আমাদের প্রভু, আমাদের দুনিয়াতে যা কল্যাণকর, পরকালে যা কল্যাণকর তা দান করুন, আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। [বাকারা-২০১] হে আল্লাহ! আমি আমরা নিজেদের ওপর অবিচার করেছি। আপনি যদি ক্ষমা ও দয়া না করেন, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব। [আরাফ- ২৩] হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ হতে এটি কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি অধিক তওবা কবুলকারী ও দয়াময়। [সূরা বাকারাহঃ ১২৭-১২৮] হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের প্রতি যুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। [কাসাসঃ ২৮:১৬]
কাযা সলাতঃ
§ নির্ধারিত সমইয়ের এবং কাযা সালাতের জন্য একই আযান যথেস্ট, তবে প্রত্যেক সালাতের জন্য পৃথক ইকামত হবে। [নাসাঈ-৬৬২]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন