ঘরের রিজিক কে আনে?
বেশিরভাগ মানুষ বলবে — স্বামী। তিনি চাকরি করেন, ব্যবসা করেন, খাটুনি করেন — তাই রিজিক আসে।
কিন্তু একটু ভাবুন — স্বামী রিজিক আনেন ঠিকই, কিন্তু সেই রিজিকে বরকত কে আনে?
কে ঘরে ঢুকে বিসমিল্লাহ বলে রান্না শুরু করেন? কে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেন? কে অল্প টাকায় পুরো মাস চালিয়ে দেন? কে স্বামীর কষ্টের সময় পাশে দাঁড়িয়ে বলেন — "আল্লাহ আছেন, হয়ে যাবে?"
স্ত্রী।
নবীজি ﷺ বলেছেন — "দুনিয়া হলো ভোগের সামগ্রী। আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সামগ্রী হলো সালেহা স্ত্রী।" (সহীহ মুসলিম: ১৪৬৭)
সালেহা স্ত্রী শুধু সংসারের শান্তি না — সংসারের বরকতও।
আর কুরআন ও সীরাতে ৩ জন নবীর স্ত্রীর ঘটনা আছে — যেখানে তাঁদের ভূমিকায় ঘরে রিজিকের দরজা খুলেছে। ৩টা ভিন্ন পরিস্থিতি। ৩টা ভিন্ন ভূমিকা। কিন্তু শিক্ষা একই — স্ত্রীর ভূমিকা ঘরের রিজিকে অপরিসীম।
---
ঘটনা ১: খাদিজা (রা.) — যিনি সম্পদ দিয়ে নবীজি ﷺ-কে সাপোর্ট করেছেন
নবুওয়াতের আগে নবীজি ﷺ মক্কায় ব্যবসা করতেন। কিন্তু বড় পুঁজি ছিল না। খাদিজা (রা.) ছিলেন মক্কার সবচেয়ে সফল নারী ব্যবসায়ী। তিনি নবীজি ﷺ-এর সততা দেখে ব্যবসায় নিযুক্ত করলেন। তারপর বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন।
বিয়ের পর? তাঁর সম্পূর্ণ সম্পদ নবীজি ﷺ-এর জন্য উৎসর্গ করলেন।
নবুওয়াত এলো। কুরাইশরা বয়কট করলো। শিআবে আবি তালিবে ৩ বছর অবরুদ্ধ। খাবার নেই। পানি নেই। বাচ্চারা ক্ষুধায় কাঁদছে।
খাদিজা (রা.) নিজের সব সম্পদ খরচ করলেন — পরিবারের জন্য, দ্বীনের জন্য, মুসলিমদের জন্য। একটা কথাও বলেননি — "আমার টাকা কেন খরচ হচ্ছে?"
নবীজি ﷺ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন — "মানুষ যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে, খাদিজা আমাকে বিশ্বাস করেছে। মানুষ যখন আমাকে বঞ্চিত করেছে, খাদিজা তাঁর সম্পদ দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছে।" (সহীহ বুখারী: ৩৮২১)
আর আল্লাহ? জিবরীল (আ.)-কে পাঠিয়ে খাদিজা (রা.)-কে জান্নাতে একটি ঘরের সুসংবাদ দিলেন — "যেখানে কোনো কোলাহল নেই, কোনো ক্লান্তি নেই।" (সহীহ বুখারী: ৩৮২০)
এই ঘটনা কী শেখায়?
স্ত্রী যখন স্বামীর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান — অভিযোগ না করে, তুলনা না করে, বরং সম্পদ ও সাহস দিয়ে সাপোর্ট করেন — আল্লাহ সেই ঘরে বরকত দেন।
আজ কত স্ত্রী আছেন — স্বামীর আয় কম, সংসার চলে না। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন না। ধৈর্য ধরেন। নিজের সোনা বিক্রি করে সংসার চালান। স্বামীকে বলেন — "চিন্তা করো না, আল্লাহ দেবেন।"
এই স্ত্রী খাদিজা (রা.)-এর উত্তরসূরি। আর আল্লাহ এই পরিবারে বরকত দেন — যেমন দিয়েছিলেন নবীজি ﷺ-এর ঘরে।
---
ঘটনা ২: হাজেরা (আ.) — যিনি একা মরুভূমিতে দৌড়েছেন, আল্লাহ যমযম দিয়েছেন
ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে স্ত্রী হাজেরা ও শিশু ইসমাঈলকে মক্কার মরুভূমিতে রেখে যাচ্ছেন। পানি নেই। খাবার নেই। মানুষ নেই। ছায়া নেই।
হাজেরা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন — "আপনি আমাদের এখানে রেখে যাচ্ছেন? আল্লাহ কি আপনাকে এই নির্দেশ দিয়েছেন?"
ইবরাহীম (আ.) বললেন — "হ্যাঁ।"
হাজেরা (আ.) বললেন — "তাহলে আল্লাহ আমাদের ছাড়বেন না।"
একটু ভাবুন — মরুভূমিতে একা, শিশু কোলে, কিছু নেই — আর তিনি বলছেন "আল্লাহ ছাড়বেন না।" এটা তাওয়াক্কুল। এটা ঈমান।
তারপর পানি শেষ হলো। শিশু ইসমাঈল তৃষ্ণায় কাঁদছে। হাজেরা (আ.) কী করলেন? বসে কাঁদলেন? হতাশ হলেন?
না। তিনি দৌড়ালেন। সাফা পাহাড়ে উঠলেন — কাউকে দেখা যায় কিনা। দেখা গেল না। মারওয়ায় দৌড়ালেন। আবার সাফায়। আবার মারওয়ায়। ৭ বার।
তাওয়াক্কুল মানে বসে থাকা না — তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা করা আর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
আর আল্লাহ? শিশু ইসমাঈলের পায়ের নিচে যমযমের ঝর্ণা ফুটিয়ে দিলেন। মরুভূমিতে। যেখানে পানির কোনো সম্ভাবনা ছিল না।
সেই যমযম আজও বইছে। হাজার বছর ধরে। কোটি মানুষ পান করছে। আর হাজেরা (আ.)-এর সেই দৌড়? সেটা হজের রুকন হয়ে গেছে — সাঈ। কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটা হাজী হাজেরা (আ.)-এর সেই দৌড়ের স্মৃতি বহন করবে।
এই ঘটনা কী শেখায়?
স্ত্রী যখন আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে চেষ্টা করেন — আল্লাহ এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন যা কল্পনাও করা যায় না। মরুভূমিতে যমযম? অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহ দিয়েছেন।
আজ কত মা একা সন্তান মানুষ করছেন। স্বামী নেই, বা স্বামী অসুস্থ, বা স্বামীর আয় নেই। একা দৌড়াচ্ছেন — চাকরি করছেন, সংসার সামলাচ্ছেন, সন্তানকে পড়াচ্ছেন। হাজেরা (আ.)-ও একা দৌড়েছিলেন। আল্লাহ তাঁকে ছাড়েননি। আপনাকেও ছাড়বেন না।
---
ঘটনা ৩: শুআইব (আ.)-এর মেয়ে — যিনি মুসা (আ.)-এর জীবন বদলে দিয়েছিলেন
মুসা (আ.) মাদইয়ানে এসেছেন। একা, পরদেশি, ক্ষুধার্ত। কূপের পাশে দুইজন মেয়ে দাঁড়িয়ে — পশুদের পানি খাওয়াতে পারছেন না।
মুসা (আ.) সাহায্য করলেন। বিনিময় চাননি।
এরপর সেই দুই মেয়ের একজন ফিরে এলেন —
فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ
উচ্চারণ: ফাজাআতহু ইহদাহুমা তামশি আলাস তিহইয়া।
"তাদের একজন তার কাছে এলেন — লজ্জায় পা ফেলে হেঁটে।"
(সূরা কাসাস: ২৫)
"আলাস তিহইয়া" — লজ্জায়। পর্দা রক্ষা করে। সম্মান বজায় রেখে।
তিনি বললেন — "আমার বাবা আপনাকে ডাকছেন। আপনি যে পানি খাওয়ালেন তার বিনিময় দিতে চান।"
তারপর সেই মেয়ে বাবাকে সুপারিশ করলেন —
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
উচ্চারণ: কালাত ইহদাহুমা ইয়া আবাতিস তাজিরহু ইন্না খাইরা মানিস তাজারতাল কাউয়্যুল আমীন।
"তাদের একজন বললেন — হে আমার বাবা, তাকে কাজে নিয়োগ দিন। কারণ আপনি যাকে কাজে রাখবেন তাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে উত্তম — যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।"
(সূরা কাসাস: ২৬)
তারপর কী হলো? শুআইব (আ.) মুসা (আ.)-কে চাকরি দিলেন এবং মেয়ে বিয়ে দিলেন।
একটু ভাবুন — এই পুরো ঘটনায় সেই মেয়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? তিনিই মুসা (আ.)-কে ডেকে আনলেন। তিনিই বাবাকে সুপারিশ করলেন। তিনিই মুসা (আ.)-এর যোগ্যতা চিনলেন — "আল-কাউয়্যুল আমীন" — শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।
এই ঘটনা কী শেখায়?
স্ত্রী/মেয়ে যখন সঠিক মানুষ চিনতে পারেন, সঠিক সুপারিশ করেন, পরিবারের কল্যাণে ভূমিকা রাখেন — আল্লাহ পুরো পরিবারে বরকত দেন। মুসা (আ.) শূন্য থেকে সব পেলেন — সেই মেয়ের হিকমতের কারণে।
---
৩টা ঘটনা — এক নজরে
খাদিজা (রা.) — সম্পদ ও সাহস দিয়ে স্বামীকে সাপোর্ট। আল্লাহ জান্নাতে ঘরের সুসংবাদ দিলেন।
হাজেরা (আ.) — তাওয়াক্কুল রেখে একা দৌড়েছেন। আল্লাহ মরুভূমিতে যমযম দিলেন।
শুআইব (আ.)-এর মেয়ে — হিকমত ও সুপারিশে পরিবারে বরকত এনেছেন। মুসা (আ.) চাকরি, বিয়ে, আশ্রয় পেলেন।
৩ জন নারী। ৩টা ভিন্ন ভূমিকা। কিন্তু একটা কমন — তাঁরা ঘরের রিজিকে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন। শুধু রান্না করে না, শুধু সংসার সামলে না — সম্পদ দিয়ে, তাওয়াক্কুল দিয়ে, হিকমত দিয়ে।
আর আল্লাহ প্রতিবার সেই পরিবারে বরকত দিয়েছেন।
শুধু এই ৩টা ঘটনা না — কুরআন ও হাদিসে রিজিকে বরকত আনার আরও অসংখ্য আমল আছে। ইস্তিগফারে রিজিক বাড়ে, তাকওয়ায় রিজিকের দরজা খোলে, সদাকায় রিজিক বাড়ে, আত্মীয়তায় হায়াত ও রিজিক দুটোই বাড়ে — কোন আমল কখন করবেন, কোন দোয়া কীভাবে পড়বেন — এসব আরও বিস্তারিতভাবে, গুছিয়ে, হাতে রাখার মতোভাবে জানতে চাইলে "রিজিকে বরকতের আমল ও ওয়াজিফা" বইটি আপনার উপকারে আসতে পারে।
সংগ্রহ করতে WhatsApp করুন 01984-563362 নম্বরে, লিখুন "রিজিকের বই চাই"
আর যারা শুধু একটি বিষয় না, বরং সূরা, দোয়া, রিজিক, সন্তান, শিফা ও আমল — সবকিছু একসাথে গুছিয়ে রাখতে চান, তাদের জন্য আমরা সাজিয়েছি "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো" — ৬টি বই একসাথে, পুরো পরিবারের আমল-লাইফের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।
✔️ কুরআনের সূরার আমল ও ফজিলত
✔️ রিজিকে বরকতের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ কুরআনের বরকতময় দোয়া
✔️ সন্তান যেন নেক ও সালেহ হয়
✔️ আল্লাহর ৯৯ নামের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ আয়াতে শিফা: রোগ ও চিকিৎসার আমল
সংগ্রহ করতে—
📩 Inbox বা WhatsApp: 01984-563362
📝 মেসেজ দিন: "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো চাই"
অথবা বইগুলোর রিভিউ ও বিস্তারিত পড়ে অর্ডার করতে চাইলে
🔗 কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন।
---
মনে রাখবেন!
রিজিক আল্লাহ দেন — কিন্তু ঘরে বরকত আনার পেছনে স্ত্রীর ভূমিকা অপরিসীম।
খাদিজা (রা.) সম্পদ দিয়েছেন — আল্লাহ জান্নাতে ঘর দিয়েছেন।
হাজেরা (আ.) দৌড়েছেন — আল্লাহ যমযম দিয়েছেন।
শুআইব (আ.)-এর মেয়ে সুপারিশ করেছেন — আল্লাহ পুরো পরিবারে বরকত দিয়েছেন।
আজ আপনি স্ত্রী হলে — জানুন, আপনার ধৈর্য, আপনার তাওয়াক্কুল, আপনার দোয়া — এগুলোই ঘরে বরকত আনে। আর আপনি স্বামী হলে — জানুন, আপনার পাশে যে নারী আছেন, তিনিই আপনার রিজিকের বরকত।
নবীজি ﷺ বলেছেন — "দুনিয়ার সর্বোত্তম সামগ্রী সালেহা স্ত্রী।"
আজ রাতে স্ত্রীকে বলুন — "তুমি আমার ঘরের বরকত।" আর স্ত্রী হলে স্বামীর জন্য দোয়া করুন — "ইয়া আল্লাহ, আমার স্বামীর রিজিকে বরকত দিন।"
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটা ঘরে সালেহা স্ত্রী ও দায়িত্বশীল স্বামী দান করুন। রিজিকে বরকত দিন। পরিবারে ভালোবাসা দিন। আর প্রতিটা পরিবারকে জান্নাতে একসাথে রাখুন। আমিন।
আপনার জীবনে কোন ঘটনাটা সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করলো?
কমেন্টে লিখুন — ১/২/৩
রেফারেন্স:
— সূরা কাসাস: ২৫-২৬
— সহীহ বুখারী: ৩৮২০, ৩৮২১
— সহীহ মুসলিম: ১৪৬৭
— তাফসীরে ইবনে কাসীর
__ সংগৃহীত
.jpg)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন