বিতর নামাজের গুরুত্ব

 👉 বিতর “সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ” নয় (হানাফি মতে)

বরং ওয়াজিব।

আর অন্যান্য মাজহাবে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ হিসেবে গণ্য।

এখন কুরআন–হাদিসের আলোকে বিস্তারিত বুঝি, ইনশাআল্লাহ—

🕌 বিতর নামাজের গুরুত্ব (কুরআন ও হাদিস)

📖 ১. কুরআনের ইশারা

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“নিশ্চয়ই রাতের কিছু অংশে (তাহাজ্জুদ/নফল) ইবাদত করো…”

— (সূরা আল-ইসরা ১৭:৭৯)

👉 এখানে সরাসরি “বিতর” শব্দ নেই, কিন্তু রাতের নামাজের অংশ হিসেবে আলেমরা বিতরকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

📖 ২. রাসূল ﷺ কখনো ছাড়েননি

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন:

“রাসূল ﷺ সফরে ও বাসায়—কখনো বিতর ছেড়ে দেননি।”

— Sahih Bukhari

👉 এর মাধ্যমে বোঝা যায়—

বিতর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

📖 ৩. বিতর আদায়ের শক্ত নির্দেশ

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“হে কুরআনের অনুসারীরা! তোমরা বিতর পড়ো,

কারণ আল্লাহ বেতর (বিজোড়) এবং তিনি বেতরকে ভালোবাসেন।”

— Sunan Abu Dawood, Jami` at-Tirmidhi

📖 ৪. বিতর না পড়া সম্পর্কে সতর্কতা

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি বিতর পড়ে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

— Sunan Abu Dawood

👉 এটি বিতরের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য কঠোর ভাষা।

⚖️ মাজহাব অনুযায়ী বিধান

🟢 হানাফি মাজহাব:

বিতর = ওয়াজিব

ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে → গুনাহ

পরে কাজা করতে হবে

🟡 শাফেয়ী, মালিকী, হাম্বলী:

সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (খুব গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত)

না পড়া → গুনাহ নয়, কিন্তু অত্যন্ত অপছন্দনীয়

⏰ সময় ও রাকাত

সময়: এশার পর থেকে ফজরের আগে

রাকাত: ১ / ৩ / ৫ / ৭ (বিজোড়)

👉 বাংলাদেশে সাধারণত ৩ রাকাত পড়া হয়

🌙 বিতরের ফজিলত

✅ আল্লাহর প্রিয় আমল

✅ রাতের নামাজের সমাপ্তি

✅ নেকির ভাণ্ডার বৃদ্ধি

✅ আল্লাহর নৈকট্য লাভ

🕊️ উপসংহার

👉 বিতর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

👉 হানাফি মতে এটি ওয়াজিব, তাই গুরুত্ব আরও বেশি

👉 রাসূল ﷺ কখনো ছেড়ে দেননি—এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ

🤲 দোয়া:

“হে আল্লাহ! আমাদেরকে নিয়মিত বিতর নামাজ আদায়ের তাওফিক দিন,

এবং আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।”

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন