
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যাঁর তেজে শয়তানও পথ হারাত!
ইসলামের ইতিহাসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর নাম শুনলে অন্যায়ের ভিত্তি কেঁপে উঠত। তিনি ছিলেন ন্যায়ের মানদণ্ড বা 'আল-ফারুক'। তাঁর ঈমানি দৃঢ়তা এবং তাকওয়া কেবল মানুষের জন্যই অনুকরণীয় ছিল না, বরং তা জিন-শয়তানের জন্য ছিল আতঙ্কের কারণ।
রাসূলে কারীম (ছা.)-এর সোহবতে তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে শয়তানের প্ররোচনা পৌঁছানোর সাহস পেত না।
হাদিসের আলোকে উমর (রা.)-এর প্রভাব...
রাসূলুল্লাহ (ছা.) বিভিন্ন সময়ে উমর (রা.)-এর ঈমানি শক্তির প্রশংসা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (ছা.) উমর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,
"হে ইবনুল খাত্তাব! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম করে বলছি—শয়তান যখনই তোমাকে কোনো পথে চলতে দেখে, তখনই সে ওই পথ ছেড়ে অন্য পথে চলতে শুরু করে।"
📚সহীহ বুখারি হাদিস নং ৩২৯০
📚সহীহ মুসলিম হাদিস নং ২৩৯৬
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বসে ছিলেন, এমন সময় বাইরে কিছু শোরগোল শোনা গেল। তিনি দেখলেন কিছু হাবশি মানুষ খেলাধুলা করছে এবং ছোট ছেলেমেয়েরা তা দেখছে। রাসূল (ছা.) আয়েশা (রা.)-কেও তা দেখতে বললেন। হঠাৎ উমর (রা.) সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তা দেখে মানুষকে সরিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) মুচকি হেসে বললেন,
"আমি মানুষের মধ্য থেকে এবং জিনদের মধ্য থেকে শয়তানদের দেখলাম যে, তারা উমরকে দেখে পালিয়ে যাচ্ছে।"
📚সুনানে আত তিরমিযি হাদিস নম্বর ৩৬৯১ ✅সনদ হাসান
দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও আল্লাহভীতি
উমর (রা.)-এর এই প্রভাব কোনো জাদুকরী বিষয় ছিল না; বরং এটি ছিল তাঁর তাকওয়া ও নিষ্ঠার ফল।
সত্যের প্রশ্নে আপসহীন... তিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী ছিলেন। ইসলামের স্বার্থে তিনি নিজের আবেগকে বিসর্জন দিতে দ্বিধা করতেন না।
অন্তরে আল্লাহর ভয়... খলিফা হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। রাতের আঁধারে প্রজাদের দুঃখ দেখতে বের হতেন। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়ই তাঁকে নির্ভীক করে তুলেছিল।
শয়তান মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে আক্রমণ করে। কিন্তু উমর (রা.)-এর নফস বা প্রবৃত্তি ছিল সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর অনুগত। ফলে শয়তান তাঁর কাছে কোনো ছিদ্র খুঁজে পেত না।
উমর (রা.)-এর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়...
ঈমানের শক্তিই শ্রেষ্ঠ শক্তি। মানুষের বাহ্যিক শক্তির চেয়ে তার আত্মিক ও ঈমানি শক্তি শয়তানকে বেশি পরাজিত করে।
তাকওয়ার পথে নিরাপত্তা... আমরা যত বেশি আল্লাহভীরু হব, কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানি ধোঁকা আমাদের ওপর তত কম প্রভাব ফেলবে।
ন্যায়বিচারের সুফল, সত্যের পথে অটল থাকলে আল্লাহ তায়ালা মানুষের অন্তরে ওই ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও ভীতি সৃষ্টি করে দেন।
পরিশেষে বলা যায়, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কেবল একজন শাসক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সত্যের এক প্রতীক। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে, যখন কোনো মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে, তখন সৃষ্টির কোনো অশুভ শক্তি তার ক্ষতি করতে পারে না। শয়তানের পথ পরিবর্তনের এই ঘটনাটি উমর (রা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলিল, যা কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের হৃদয়ে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন