জিলকদ মাসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও আমল

 ইসলামের ইতিহাসে জিলকদ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এটি হজের মাসের অংশ। মূলত জিলকদ মাসে হজযাত্রীরা মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।

.

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা যে চারটি মাসকে 'সম্মানিত' বা 'হারাম' মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন, জিলকদ তার মধ্যে প্রথম। এই মাসগুলোতে ঝগড়া, বিবাদ বা যুদ্ধ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

.

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:  "নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও কিতাবে মাসসমূহের সংখ্যা বারোটি... তার মধ্যে চারটি সম্মানিত (হারাম) মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম।" (সূরা তওবা: ৩৬)

.

এবং শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ—এই তিন মাসকে একত্রে 'আশহুরুল হজ' বা হজের মাস বলা হয়।

.

নবী কারীম (সা.) তাঁর জীবনের চারটি উমরাহ’র মধ্যে প্রতিটিই জিলকদ মাসে পালন করেছিলেন (জিলহজ মাসের হজের সাথে পালন করা উমরাহ ব্যতীত)। (সহিহ বুখারি: ১৭৭৮)

.

এই চারটি মাস সম্পর্কে নবী কারীম (সা.) বিদায় হজের ভাষণে স্পষ্টভাবে বলেছেন: "বছর বারো মাসে। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি ধারাবাহিক—জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো রজব।" (সহিহ বুখারি: ৪৬৬২)

.

উল্লেখ্য,  জিলকদ মাসের জন্য সুনির্দিষ্ট বা ফরয কোনো আমল নেই, তবে সম্মানিত মাস হিসেবে এই সময়ে বেশি বেশি ইবাদত করাই সকল মুসলমানের জন্য কর্তব্য।

.

যেহেতু এটি  'সম্মানিত বা নিষিদ্ধ মাস, তাই এই মাসে যেকোনো অন্যায় বা পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

.

জিলকদ মাস হলো জিলহজের (হজের এবং কোরবানির) আগের প্রস্তুতির মাস। এই মাসে ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলা এবং নিজের অন্তরকে ইবাদতের জন্য তৈরি করাই একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।

.

আল্লাত তায়ালা আমাদের সবাইকে সর্বদা আমলের সাথে থাকার তৌফিক দান করুক-আমিন!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন